আপনার এই ৫ অভ্যাসেই প্রতি বছর মরছে ১২ লাখ মানুষ! WHO-এর সতর্কতা: অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সামান্য ভুলেও বাড়ছে যে বিপদ

সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই সরাসরি ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়া, অথবা কোর্স শেষ না করেই ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া—আমাদের এই দৈনন্দিন অবহেলাই বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের অভ্যাস মারাত্মক ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স’ (AMR) ডেকে আনছে, যার ফলে সংক্রমণ নিরাময় করা কঠিন থেকে অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই বছর AMR-এর প্রতিপাদ্য নির্বাচন করেছে: “সক্রিয় থাকুন, বর্তমানকে রক্ষা করুন এবং ভবিষ্যতকে সুরক্ষিত করুন।”

AMR কী এবং কেন এটি উদ্বেগের:

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) হল একটি বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এর অর্থ হলো, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক বা পরজীবীর মতো জীবাণুগুলি অ্যান্টিবায়োটিক-সহ অন্যান্য অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই ওষুধ-প্রতিরোধী সংক্রমণের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ১.২৭ মিলিয়ন (১২ লক্ষ ৭০ হাজার) মানুষের মৃত্যু ঘটে। এর ফলে, একটি সাধারণ সংক্রমণও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

আপনার ৫টি দৈনন্দিন অভ্যাস, যা AMR-এর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে:

বিশেষজ্ঞরা এই পাঁচটি অভ্যাস অবিলম্বে পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন:

স্ব-চিকিৎসা ও কোর্স অসম্পূর্ণ রাখা: ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া অথবা কোর্স শেষ না করেই ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া AMR তৈরি হওয়ার মূল কারণ।

পোল্ট্রি শিল্পের ঝুঁকি: মুরগি বা অন্যান্য পশুতে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে, যা খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের শরীরে পৌঁছে AMR সৃষ্টি করছে।

দূষিত পানীয় জল: দূষিত পানীয় জল, যা ভারতে সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ। এই জলপানের মাধ্যমেও শরীরে ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণু প্রবেশ করে। তাই RO বা ফোটানো জল ব্যবহার করুন এবং বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় নিজের সঙ্গে জল রাখুন।

অস্বাস্থ্যকর খাদ্য: বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার টাইফয়েড বা পেটের সংক্রমণ বাড়ায়, যা ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরিস্থিতি তৈরি করে এবং শেষ পর্যন্ত AMR-এর ঝুঁকি বাড়ায়। পরিষ্কার, ঘরে রান্না করা খাবার খান।

ডায়াবেটিস ও দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতা: যাঁরা ডায়াবেটিস বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মতো স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের যেকোনো সংক্রমণের ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বেশি। টাইফয়েড ও হেপাটাইটিসের মতো টিকাগুলি দ্রুত নিয়ে নিন।

প্রতিরোধের জরুরি উপায়:

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখুন এবং খাবার খাওয়ার সময় বিশেষ যত্ন নিন।

সংক্রমণ এড়িয়ে চলুন: সংক্রমিত হলে মাস্ক পরুন এবং মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি এক রোগী থেকে অন্য রোগীর শরীরে ছড়াতে পারে।

জরুরি সতর্কতা: জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল বা ক্রোসিন গ্রহণ করা যেতে পারে, কিন্তু নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক কখনোই খাবেন না। যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।