‘মাদ্রাসা বন্ধ করলে মুসলিমরা কী করবে দেখতেই পাবেন!’ মঞ্চ থেকে সরকারকে ধমক দিয়ে শ্রীঘরে কুখ্যাত মৌলানা

উত্তরাখণ্ডের উধম সিং নগর জেলার রুদ্রপুরে এক ধর্মীয় জনসভায় প্রকাশ্যে সরকারকে হুমকি দেওয়া এবং উসকানিমূলক বক্তব্য রাখার অভিযোগে মৌলানা মুফতি মুজি্বকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির কড়া বার্তার পর পুলিশ প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।মাদ্রাসা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ও হুমকি:ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার রুদ্রপুরে আয়োজিত बारावफात (বারাফেফাত)-এর এক বিশাল জলুস ও জনসভা থেকে। সেখানে রামপুরের বাসিন্দা তথা বক্তা মৌলানা মুফতি মুজীব হাজারো মানুষের ভিড়ের সামনে দাঁড়িয়ে উত্তরাখণ্ড সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান। তিনি প্রকাশ্যমঞ্চ থেকে উস্কানিমূলক সুরে বলেন যে, যদি সরকার মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া বন্ধ না করে, তবে মুসলমানরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করবে যা কেউ কখনো দেখেনি। এই বক্তব্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী ধামির কঠোর হুঁশিয়ারি:মৌলানার এই হুমকিভরা ভিডিও সামনে আসতেই কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সাফ জানিয়ে দেন যে, উত্তরাখণ্ড কোনোভাবেই তুষ্টির রাজনীতি বা হুমকি বরদাস্ত করবে না। মুখ্যমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, “उत्तराखंड কোনো পাকিস্তান নয়, এটি দেবভূমি। এখানে কারো কোনো ধরনের হুমকি বা বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। সংবিধান ও আইনের তোয়াক্কা না করে যারা সমাজে বিভেদ ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।” দ্রুত আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার:মুখ্যমন্ত্রীর এই স্পষ্ট নির্দেশের পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। শুক্রবার রাতেই উধম সিং নগর জেলার রুদ্রপুর কোতোয়ালিতে অভিযুক্ত মৌলানা মুফতি মুজীবের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মৌলানাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে তাকে রেখে এই উসকানিমূলক প্ররোচনার নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা উসকানিদাতা রয়েছে কিনা, সে বিষয়েও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।