“অনেক হয়েছে, আর সহ্য করা যায় না!” পেশাগত ও রাজনৈতিক আক্রমণ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খুললেন ইমন চক্রবর্তী

জগন্নাথ পুজোয় নিজের প্রয়াত মায়ের ছবি রাখাকে কেন্দ্র করে যে তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, তা যেন থামার কোনো লক্ষণই দেখছে না। বরং সেই পুরনো ঘটনাকে ঘিরেই এবার ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে পড়তে হলো জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত গায়িকা ইমন চক্রবর্তীকে। সম্প্রতি এক নেটিজেনের করা অত্যন্ত কুরুচিকর ও বিস্ফোরক একটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট নিজের প্রোফাইলে শেয়ার করে সরাসরি নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত ভিত্তিহীন অভিযোগের সপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ দেওয়ার জন্যও জোরালো দাবি জানিয়েছেন এই তারকা শিল্পী।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই নিজের বাসভবনে ধুমধাম করে জগন্নাথ পুজোর আয়োজন করেছিলেন ইমন। সেই পবিত্র পুজোর আসনেই ভগবান জগন্নাথের ঠিক ওপরের দিকে নিজের প্রয়াত মায়ের একটি ছবি স্থাপন করেছিলেন তিনি। আর এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। সেই সময় গায়িকা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে মা-বাবার স্থান সবার ওপরে এবং অন্য কারোর মতামত তাঁর এই বিশ্বাসের ভিত কখনোই নড়াতে পারবে না।

কিন্তু সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি এক ফেসবুক ব্যবহারকারী মহিলা নতুন করে প্রশ্ন তোলেন যে, কেন ভগবান জগন্নাথের ছবির উপরে ইমনের মায়ের ছবি রাখা হয়েছিল। শুধু ধর্মীয় ভাবাবেগ বা আচার-অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনেই ওই পোস্টটি শেষ হয়নি, বরং গায়িকার পেশাগত জীবন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক এবং রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়। যদিও সেই সমস্ত দাবির সপক্ষে বিন্দুমাত্র কোনো প্রমাণ বা তথ্য পেশ করা হয়নি।

এই ধরনের অবমূল্যায়ন ও ব্যক্তিগত আক্রমণ দেখে আর চুপ থাকেননি ইমন চক্রবর্তী। সঙ্গে সঙ্গে সেই পোস্টের স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে এনে তিনি লিখেছেন, “অনেক হয়েছে। ধৈর্যের বাধ ভাঙলে মুশকিল। এই মহিলা আমাকে ব্লক করে এই পোস্টটি করেছেন। যা যা বলেছেন উনি তার প্রমাণ দিক। কোথায় কত টাকার গল্প উনি দিচ্ছেন তার প্রমাণ তো আমার চাই। আর না হলে এবার একটু মুশকিল।” সমস্ত অভিযোগের মাঝেও নিজের অবস্থান নিয়ে আপসহীন থেকে গায়িকা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর কাছে তাঁর মা-বাবাই সর্বেসর্বা।

ইমনের এই সাহসী প্রতিবাদের পর তাঁর অগণিত অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, মানুষ যখন নিজের কঠোর পরিশ্রমে জীবনে সফল হন, তখন একশ্রেণির মানুষের হিংসা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। এই ঘটনার জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও, নিজের বাবা-মাকে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত থেকে যে তিনি একচুলও নড়বেন না, তা ইমন বুঝিয়ে দিয়েছেন।