দেশজুড়ে নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষা নিয়ে চলা দীর্ঘ টানাপড়েন ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শুক্রবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী ২১শে জুন নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ‘শিক্ষা মাফিয়া’দের দৌরাত্ম্য রুখতে সরকার যে কোনো প্রকার আপস করবে না, সে বিষয়েও তিনি কড়া বার্তা দিয়েছেন।
গত ৩রা মে আয়োজিত পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং তথাকথিত ‘অনুমানভিত্তিক প্রশ্নপত্র’ নিয়ে ওঠা বিতর্কের জেরে গত ১২ তারিখ পরীক্ষাটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ তদন্তের পর এবং রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করেই এই পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা চাইনি শিক্ষা মাফিয়ারা শিক্ষার্থীদের মেধা ও আসন দখল করুক। এটি শূন্য সহনশীলতার এক দীর্ঘ লড়াই।”
এদিন শিক্ষামন্ত্রী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, পুরো বিষয়টির গভীরে গিয়ে তদন্ত করার জন্য ইতিমধ্যেই সিবিআই-কে (CBI) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “সরকারি নেতৃত্ব বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। যারা এই ধরনের অসৎ কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটি তাদের জন্য একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা।”
পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এনটিএ (NTA) এবং শিক্ষা মন্ত্রক বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন:
পরীক্ষার সময়সীমা: পরীক্ষার্থীদের বাড়তি সময় দেওয়া হবে। আগে দুপুর ২:০০ থেকে বিকেল ৫:০০ পর্যন্ত সময় থাকলেও, এবার পরীক্ষা শেষ হবে বিকেল ৫:১৫ মিনিটে। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সময় পাবেন।
পছন্দের শহর: শিক্ষার্থীরা তাদের সুবিধামতো পরীক্ষার শহর বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর জন্য এক সপ্তাহের একটি উইন্ডো খোলা থাকবে।
ফ্রি এবং ফি: পুনঃপরীক্ষার জন্য কোনো অতিরিক্ত আবেদন ফি দিতে হবে না। পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফি ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও এনটিএ শুরু করবে।
অ্যাডমিট কার্ড: আগামী ১৪ই জুনের মধ্যে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করা যাবে।
ধর্মেন্দ্র প্রধান আশ্বস্ত করেছেন যে, এনটিএ-র সংস্কারের কাজ চলছে এবং একজন যোগ্য কর্মকর্তার অধীনে পরীক্ষা ব্যবস্থা আরও সুরক্ষিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থে এবং ১ কোটি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।





