NDA ছাড়তে প্রস্তুত চিরাগ! আসন রফা না হলেই প্রশান্ত কিশোরের ‘জন সূরজ’-এর সঙ্গে জোট? বিহারে বড় ট্যুইস্ট

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়ে গিয়েছে চূড়ান্ত কৌশল রচনা এবং আসন রফা নিয়ে জোরদার আলোচনা। এবার এনডিএ ও ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বাইরেও তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) নতুন দল ‘জন সূরজ পার্টি’ (Jan Suraj Party)। আর এই মুহূর্তে বিহারের রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় জল্পনা হল— চিরাগ পাসওয়ানের (Chirag Paswan) এলজেপি (LJP)-র সঙ্গে কি জোট বাঁধতে চলেছেন এই পরিচিত নির্বাচনী রণনীতিকার?

চিরাগের দাবি ৪০-৪৫ আসন: এনডিএ-র চাপ বাড়ছে!
এনডিএ জোটে থাকা চিরাগ পাসওয়ান এবার নির্বাচনে অন্তত ৪০ থেকে ৪৫টি আসনে লড়তে চান। গত লোকসভা নির্বাচনে তাঁর দল ৫টি আসনেই জয়লাভ করায় চিরাগের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। একইসঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar) সঙ্গে চিরাগের সম্পর্ক বরাবরই শীতল। তাই আসন রফার ক্ষেত্রে চিরাগ সরাসরি বিজেপি নেতৃত্বকে চাপ দিতে চান।

যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি এবং জেডিইউ (JDU) জোট কোনোভাবেই চিরাগকে এতগুলি আসন ছাড়বে না। এই পরিস্থিতিতে চিরাগকে শেষ পর্যন্ত কতগুলি আসন দিয়ে সন্তুষ্ট করা যায়, সেটাই এখন এনডিএ-র বড় মাথাব্যথা।

জোট ভাঙার হুঁশিয়ারি চিরাগের
আসন রফা নিয়ে মতের অমিল হলে এনডিএ জোট ভেঙে বেরিয়ে আসার পথও তাঁর জন্য খোলা আছে, এমনটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন চিরাগ পাসওয়ান। এলজেপি সূত্রে যদিও দাবি করা হচ্ছে, বিজেপি-র সঙ্গে এখনও আসন নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুই হয়নি। তবে চিরাগের মনোভাব স্পষ্ট: পছন্দমতো আসন না পেলে জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত!

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে চিরাগ জানিয়েওছিলেন, “আমি ভালো আসন চাই। তবে এখনই প্রকাশ্যে কিছু বলব না, কারণ তা জোট ধর্মের পরিপন্থী হবে। বিহারের সব কেন্দ্রে ২০ থেকে ২৫ হাজার ভোটারের উপর আমার প্রভাব আছে। যে কোনো সময়েই জোট ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার পথ আমার সামনে খোলা আছে।”

প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে জোট: জল্পনা না সত্যি?
আসন রফা নিয়ে বিজেপি ও জেডিইউ-এর সঙ্গে চিরাগের এই সম্ভাব্য সংঘাতের ফলেই এলজেপি এবং জন সূরজ পার্টির জোট নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে। এই সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া না গেলেও, চিরাগ কি এখনই এত বড় ঝুঁকি নেবেন?

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চিরাগ দীর্ঘদিন ধরে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও অন্যতম আস্থাভাজন নেতা। ভোটের মুখে পিকে-র মতো রাজনীতিতে নতুন আসা কারও হাত ধরার ঝুঁকি তিনি এখনই নেবেন কিনা, সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। তবুও, এলজেপি তাদের ভালো আসন পাওয়ার দাবিতে অনড়। চিরাগের এই দাবি পূরণ না হলে শেষ পর্যন্ত তিনি সত্যিই প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিহারের রাজনীতিতে বড় মোচড় আনেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।