IIT-ডিরেক্টরকে ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ বলে কটাক্ষ প্রিয়ঙ্কার! কে এই পদ্মশ্রীজয়ী অধ্যাপক কামাকোটি?

জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা বা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র পরীক্ষা প্রক্রিয়া সংস্কার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গঠন করেছেন এক হাই-লেভেল টাস্কফোর্স। ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বাধীন সেই টাস্কফোর্সে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে আইআইটি মাদ্রাজের (IIT Madras) ডিরেক্টর অধ্যাপক ভি কামাকোটিকে। তবে এই নিয়োগের পরপরই কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী তাঁকে ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ বলে কটাক্ষ করায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।

রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠলেও অধ্যাপক কামাকোটির শিক্ষাগত, প্রশাসনিক ও গবেষণার খতিয়ান কিন্তু এক সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞানীর ছবি তুলে ধরছে।

“কম্পিউটার সায়েন্সের উজ্জ্বল নাম অধ্যাপক কামাকোটিকে নিয়ে রাজনীতির কারণে এমন মন্তব্য করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ।”

কারা এই অধ্যাপক ভি কামাকোটি? জানুন তাঁর সাফল্যের খতিয়ান:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পদে আরোহণ: বিশ্বখ্যাত আইআইটি মাদ্রাজ থেকেই কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এমএস (MS) এবং পিএইচডি (PhD) সম্পন্ন করেন তিনি। ২০০১ সালে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ২০২২ সালে ওই প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর নিযুক্ত হন।

  • গবেষণা ও সাফল্য: ইনফরমেশন সিকিউরিটি, ভিএলএসআই (VLSI) ডিজাইন ও কম্পিউটার আর্কিটেকচারে অসামান্য দক্ষতার জন্য আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর ১৫০টিরও বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

  • জাতীয় নিরাপত্তা ও নীতি নির্ধারণ: তিনি ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড’ (NSAB)-এর বিশিষ্ট সদস্য। এছাড়া কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের ‘এআই (AI) টাস্কফোর্স’-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। আরবিআই (RBI) ও এনএসই-র (NSE) প্রযুক্তি কমিটির সঙ্গেও তিনি যুক্ত।

  • জাতীয় পুরস্কার ও পদ্মশ্রী: শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে অসামান্য অবদানের জন্য ভারত সরকার তাঁকে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মানজনক ‘পদ্মশ্রী’ উপাধিতে ভূষিত করেছে। এছাড়াও পেয়েছেন ডিআরডিও (DRDO) অ্যাকাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ও আব্দুল কালাম ফেলোশিপ।

বিতর্কের উৎস কী?

অতীতে একটি অনুষ্ঠানে প্রাকৃতিক চাষাবাদ এবং গোমূত্রের ভেষজ গুণাবলী (অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল প্রভাব) নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরের সায়েন্টিফিক পেপারের কিছু তথ্য উল্লেখ করেছিলেন অধ্যাপক কামাকোটি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সেই বক্তব্যকেই হাতিয়ার করে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী এই কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন বলে অভিমত ওয়াকিফহাল মহলের।

তবে এমন একজন উচ্চপদস্থ ও আন্তর্জাতিক মানের কম্পিউটার বিজ্ঞানীকে রাজনৈতিক আক্রমণের নিশানা বানানো কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে।