DVC-র জলে ফের বন্যার আশঙ্কা দক্ষিণবঙ্গে! রাজ্য সরকারের চরম অসন্তোষ

দক্ষিণবঙ্গে ফের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় প্রমাদ গুনছে প্রশাসন। একদিকে লাগাতার বর্ষণ, অন্যদিকে রাজ্য সরকারকে কোনওরকম পূর্ব সতর্কতা না জানিয়েই দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি) বিশাল পরিমাণ জল ছেড়ে দেওয়ায় উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। শুক্রবার ডিভিসি ৫৫ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে, যা নিয়ে রাজ্যের সেচ দফতর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, এই আকস্মিক জল ছাড়ার ফলে হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া-সহ একাধিক জেলায় ফের বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সূত্র মারফত খবর, সেচ দফতরের পক্ষ থেকে ডিভিসিকে একটি কড়া ই-মেল পাঠানো হয়েছে। সেই ই-মেলে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কেন পাঞ্চেত জলাধারের জলস্তর ৪১১ ফুটের আশেপাশে থাকা সত্ত্বেও এই পরিমাণ জল ছাড়া হলো। উল্লেখ্য, এই জেলাগুলির বহু এলাকা সম্প্রতি বন্যায় জর্জরিত ছিল, যেখানে এখনও পুনর্গঠনের কাজ চলছে। নতুন করে জল ছাড়ার ঘটনা সেই কাজকে ব্যাহত করবে বলেই আশঙ্কা করছে রাজ্য সরকার।
‘ম্যানমেড বন্যা’র অভিযোগ ও অতীতের অভিজ্ঞতা:
এর আগেও রাজ্যকে না জানিয়ে জল ছেড়ে দেওয়ায় দক্ষিণবঙ্গে ‘ম্যানমেড বন্যা’র পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৭ এবং ২০২১ সালের ভয়াবহ বন্যার প্রসঙ্গ টেনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিবৃষ্টি এবং অতিরিক্ত জল ছাড়া একসঙ্গে হলে ফের এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস ও নবান্নের হুঁশিয়ারি:
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ডিভিসিকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। নবান্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ডিভিসিকে জল ছাড়ার আগে বাধ্যতামূলকভাবে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতেই হবে। অন্যথায়, এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। ডিভিসির এই পদক্ষেপ রাজ্য-কেন্দ্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের জন্ম দিতে পারে বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহল।