DA বৃদ্ধির পর তৃণমূলের সুরবদল! কুণাল ঘোষের দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছা ছিল, কিন্তু অর্থের অভাব ছিল”

নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার দু’মাসের মধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা (DA) এক লাফে ২০ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের আমলের বকেয়া ডিএ বিতর্ক নিয়ে ফের শোরগোল শুরু হয়েছে। ১৫ বছরে তৃণমূল সরকার যেখানে ১৮ শতাংশ ডিএ বাড়িয়েছিল, সেখানে মাত্র দুই মাসে নতুন সরকারের ২০ শতাংশ বৃদ্ধি রাজনৈতিক মহলে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কুণাল ঘোষের বক্তব্য: এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ মুখ খুলেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিএ দেওয়ার সদিচ্ছা ছিল, কিন্তু রাজকোষের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। কুণাল বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ডিএ দেওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল। কিন্তু রাজকোষের পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে হতো যে, তিনি ডিএ দেবেন নাকি সামাজিক প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ বজায় রাখবেন। কেন্দ্র সরকার রাজ্যের বকেয়া টাকা মিটিয়ে দিলে ডিএ দেওয়া অনেক সহজ হতো।”
বাজেট নিয়ে কটাক্ষ: ডিএ নিয়ে সাফাই দিলেও, সরকারের পেশ করা নতুন বাজেটকে তীব্র আক্রমণ করেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, “এটি কোনো স্বনির্ভর বাংলার বাজেট নয়। বরং এটি কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল একটি বাজেট।” কুণালের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সরকার যতই জনমোহিনী পদক্ষেপ নিক না কেন, তৃণমূল কংগ্রেস বাজেটের উৎস এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।
রাজনৈতিক প্রেক্ষিত: বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে এক লপ্তে ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি এবং নতুন সরকারি ছুটির ঘোষণা কর্মীবহুল মহলে স্বস্তির বার্তা এনেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপটি একইসঙ্গে সরকারি কর্মীদের আস্থা অর্জন এবং তৃণমূল সরকারের পূর্ববর্তী সময়ের ‘ডিএ বঞ্চনা’র অভিযোগকে আরও প্রকট করে তোলার একটি কৌশল। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই ডিএ বিতর্ক কতটা রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ায়।