১০ বছরে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে চলেছে ব্রিটেন! কেন আলোচনার কেন্দ্রে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম?

ব্রিটিশ রাজনীতিতে আবারও বড় ধরনের অস্থিরতা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা হিসেবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন স্যার কিয়ার স্টারমার। আর এই পদত্যাগের পরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ‘কিং অফ দ্য নর্থ’ খ্যাত অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তাঁকে ঘিরেই এখন ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন দেখছে লেবার পার্টি ও তাঁর অগণিত সমর্থক।

এক দশকের অস্থিরতায় সপ্তম প্রধানমন্ত্রী

গত দুই বছরের অস্থিরতা এবং স্থানীয় নির্বাচনের বিপর্যয়ের পর অবশেষে বিদায়ের পথ বেছে নিলেন স্টারমার। তাঁর এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাজ্য গত দশ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তার সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জয় এবং লন্ডনের রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভই স্টারমারের এই ত্বরান্বিত বিদায়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

কেন অ্যান্ডি বার্নহ্যামই যোগ্য উত্তরসূরি?

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে প্রায় এক দশকের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বার্নহ্যামকে লেবার পার্টির অনেকেই ‘ত্রাতা’ হিসেবে দেখছেন। ৫৬ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ কোভিড-১৯ মহামারীর সময় বরিস জনসন সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

তাঁর সমর্থকরা মনে করেন, লন্ডন-কেন্দ্রিক রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে তিনি শ্রমিক শ্রেণির মানুষের আবেগকে বুঝতে সক্ষম। বিশেষ করে ‘বি নেটওয়ার্ক’-এর মাধ্যমে গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের মাধ্যমে তিনি নিজের নেতৃত্বের প্রমাণ দিয়েছেন।

বার্নহ্যামের রাজনৈতিক যাত্রা: সাফল্যের প্রত্যাশা

অ্যান্ড্রু মারে বার্নহ্যামের ক্যারিয়ার বেশ বৈচিত্র্যময়। গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য সচিব ও সংস্কৃতি সচিবের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তবে ২০১৫ এবং ২০১৭ সালে দুবার নেতৃত্ব নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন তৃণমূলের নেতা হিসেবে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে তাঁর কাজই তাঁকে আবারও ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরার পথ প্রশস্ত করেছে।

সামনের চ্যালেঞ্জ

রাজনীতির ‘গেম অফ থ্রোনস’-এ জয়ী হতে হলেও বার্নহ্যামকে কিছু কাঠখড় পোড়াতে হবে। লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ দল গঠন এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করাই হবে তাঁর জন্য প্রধান পরীক্ষা।

এখন দেখার বিষয়, মেকারফিল্ডের এই নতুন সংসদ সদস্য ব্রিটিশ রাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে লৌহ সিংহাসন দখল করতে পারেন কি না। তবে সব মিলিয়ে, ব্রিটেনের বর্তমান রাজনীতিতে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের উত্থান একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।