বাজেট নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত তৃণমূল: একসময় যা ছিল ‘ভিক্ষা’, আজ তাতেই সিলমোহর বিজেপির, দাবি কুণালের

নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটকে ‘আদ্যোপান্ত কেন্দ্র-নির্ভর’ বলে কটাক্ষ করল মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার বাজেট পেশের পর বিধানসভা চত্বরে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এবং বিধায়ক মদন মিত্র দাবি করেন, এই বাজেটে সরকারের নিজস্ব আয়ের কোনো স্পষ্ট রূপরেখা নেই।
তৃণমূলের মূল অভিযোগসমূহ:
মমতার প্রকল্পের অনুকরণ: কুণাল ঘোষের অভিযোগ, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে যে সামাজিক প্রকল্পগুলোকে ‘ভাতা’ বা ‘ভিক্ষা’ বলে উপহাস করত, আজ রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতায় সেই প্রকল্পগুলোই তারা নিজেদের নামে চালিয়ে দিচ্ছে। তিনি বিশেষ করে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ এবং মমতা সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, “পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থানের যে দিশা দেখানো হয়েছে, তার ভিত্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেই তৈরি হয়েছিল।”
স্বচ্ছতার অভাব: অন্নপূর্ণা যোজনায় মহিলাদের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘যোগ্য’ শব্দটির প্রয়োগ নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলে কুণাল বলেন, “আগের সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সকলেই পেতেন। এখানে যোগ্যতার মাপকাঠি কী, তা স্পষ্ট নয়।” এছাড়া স্বাস্থ্যসাথীর বদলে আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের শর্ত নিয়েও তিনি গরিব মানুষের বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন।
কেন্দ্র-নির্ভরতা: বাজেট আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে কুণাল জানান, মমতার সরকার হাজারো বঞ্চনা সত্ত্বেও স্বনির্ভর বাংলার বাজেট পেশ করত, কিন্তু এই নতুন বাজেট পুরোপুরি কেন্দ্র-নির্ভর।
সংখ্যালঘু ও পরিকাঠামো: সংখ্যালঘু উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ কমানোর অভিযোগ তুলে মদন মিত্র দাবি করেন, বিজেপি ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর কথা বললেও তাদের প্রথম বাজেটে শুধু নিজেদের পছন্দের লোকেদেরই উন্নয়নের ছবি ফুটে উঠেছে। এছাড়া কলকাতার সুরাবর্দী অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেছেন তারা।
রাজনৈতিক অবস্থান: কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, তারা এই নতুন সরকারকে কাজ করার জন্য কিছুটা সময় দিতে চান। জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপকে সমর্থন করার আশ্বাস দিলেও, সরকারের ভুল ও অস্পষ্ট পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তৃণমূল সরব থাকবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের প্রথম বাজেটেই তৃণমূলের এই কড়া আক্রমণ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, বিধানসভায় বিরোধী হিসেবে তারা কতটা आক্রামক ভূমিকা নিতে চলেছে। একদিকে নতুন সরকারের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, আর অন্যদিকে তৃণমূলের এই সমালোচনা—দুইয়ের টানাপোড়েনে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির পারদ যে আরও চড়বে, তা বলাই বাহুল্য।