নির্বাচনের প্রাক্কালে শহর কলকাতার উত্তাপ এক ধাক্কায় বেড়ে গেল অনেকটা। সোমবার রাতে কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত একবালপুরের হোসেন শাহ রোডে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে জখম হয়েছেন অন্তত ৬ জন পুলিশকর্মী। এই ঘটনায় দুই পক্ষের মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সভার মাঝেই ‘স্লোগান যুদ্ধ’
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাতে। বন্দর এলাকার বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিং-এর সমর্থনে হোসেন শাহ রোডে একটি নির্বাচনী প্রচারসভা চলছিল। অভিযোগ, সভা চলাকালীন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব বিজেপির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পাল্টা গর্জে ওঠেন বিজেপি কর্মীরাও। কিছুক্ষণের মধ্যেই কথা কাটাকাটি গড়ায় হাতাহাতিতে।
থানার সামনে ধুন্ধুমার ও অবরোধ
উত্তেজনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাকেশ সিং। তাঁকে দেখেই ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন তৃণমূল সমর্থকেরা। এর প্রতিবাদে একবালপুর থানার সামনে সমর্থকদের নিয়ে ধরনায় বসে পড়েন রাকেশ। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয় যখন তৃণমূল সমর্থকেরাও থানার সামনে পৌঁছে পাল্টা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
রক্তাক্ত সংঘর্ষ ও পুলিশি ধরপাকড়
পুলিশের চোখের সামনেই দুই পক্ষ একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় তুমুল সংঘর্ষ। বিজেপির দাবি, এই হামলায় প্রার্থী রাকেশ সিং গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের ইটের আঘাতে ৬ জন পুলিশকর্মী জখম হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জও করতে হয় বলে খবর।
পুলিশি পদক্ষেপ:
এই ঘটনায় একবালপুর থানায় মোট ৩টি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে ৫ জন বিজেপি কর্মী এবং ৪ জন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF)।
চাপের মুখে বন্দর এলাকা
কলকাতা বন্দরে ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে রাকেশ সিংকে প্রার্থী করার পর থেকেই এই কেন্দ্রে উত্তেজনার পারদ চড়ছিল। ভোটের আগে এই সংঘর্ষ সাধারণ ভোটারদের মনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে নাকা চেকিং ও টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। দোষীদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলেও কড়া বার্তা দিয়েছে লালবাজার।





