৮ ফুট উঁচু মঞ্চ, কার্পেটের গালিচা! আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে রেড রোডের প্রস্তুতি দেখে চোখ কপালে আমজনতার

আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। সেই বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র রেড রোডে এখন রীতিমতো সাজ সাজ রব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সমস্ত প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও এই মহতী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং রাজ্যের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যবৃন্দ। জানা গিয়েছে, যোগ দিবসের মূল কর্মসূচিতে ক্রীড়া জগতের ১০০০ জন প্রতিনিধি সহ দেশ-বিদেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে রেড রোড সংলগ্ন এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে এবং অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির জন্য টানা সাত দিন রেড রোড বন্ধ রাখা হয়েছে।
রেড রোডের শুরুতেই তৈরি করা হচ্ছে এক সুবিশাল মঞ্চ। ৮ ফুট উচ্চতা, ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৪৮ ফুট প্রস্থের এই মঞ্চটি নির্মাণ করা হচ্ছে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে। মঞ্চের চারপাশ সাজানো হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির আলোকসজ্জা দিয়ে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে রেড রোডের দুপাশে সবুজ ঘাসের ওপর পাতা হয়েছে বিশেষ কার্পেট। সব মিলিয়ে রেড রোড যেন আজ এক বিশাল খোলা আকাশের নিচে যোগব্যায়ামের প্রেক্ষাপট হয়ে উঠছে।
এদিকে, প্রিন্সেপ ঘাটের গঙ্গার পাড়ে ফুটে উঠছে এক অন্য ছবি। ওড়িশার শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় বালির ভাস্কর্য বা স্যান্ড আর্টের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে হাওড়া ব্রিজ এবং যোগ দিবসের প্রতীকী শিল্পকর্ম। বাংলার সংস্কৃতি ও কলকাতার ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন দেখে আপ্লুত শিল্পানুরাগী শহরবাসী। শিল্পীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এমন এক মেগা ইভেন্টের অংশ হতে পেরে তাঁরা গর্বিত।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে চলছে নানা জল্পনা। গত সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে গিয়ে প্রস্তুতির কাজ খতিয়ে দেখেন। সেখানে অভিষেক ডালমিয়ার উপস্থিতি ও ক্রীড়ামন্ত্রীর ফেসবুক পোস্টে তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। এর সঙ্গে সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে ক্রীড়ামন্ত্রীর চিঠিপত্র চালাচালি যোগ করায় ময়দানে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পাশে অভিষেক ডালমিয়ার ছবি কি কোনো নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।
সবশেষে, যোগ দিবসকে সামনে রেখে রাজ্য পুলিশের ভূমিকাও প্রশংসনীয়। ভবানী ভবনে ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের যোগাভ্যাসে অংশগ্রহণ করার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সুস্থ জীবনধারার বার্তা ছড়িয়ে দিতে পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। ২১ জুন কি তবে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় কলকাতা? সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা দেশ।