মেসি-কাণ্ডের জট খুলবে কি? বিধাননগর থানায় অবশেষে হাজিরা অরূপ বিশ্বাসের

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট। রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠল বিধাননগর দক্ষিণ থানা চত্বর। দীর্ঘ টালবাহানা ও তিনবার তলব এড়ানোর পর, শেষ পর্যন্ত তদন্তকারীদের মুখোমুখি হলেন তৃণমূলের এই প্রভাবশালী নেতা। মেসি-কাণ্ডের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় অরূপ বিশ্বাসের এই হাজিরাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

গত ডিসেম্বর মাস থেকে লিওনেল মেসির ভারত সফরকে কেন্দ্র করে যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। ইভেন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তর অভিযোগ, মেসির সফরের জন্য বরাদ্দ ৭০ হাজার টিকিটের মধ্যে ২২ হাজার টিকিট জোর করে নিজের কব্জায় নিয়েছিলেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী। শুধু টিকিট নয়, মেসির নিরাপত্তা প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং মাঠে নিয়মবহির্ভূত ভিড় সামলানো নিয়েও তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত কয়েক মাসে বিধাননগর কমিশনারেট একাধিকবার নোটিস পাঠায় অরূপ বিশ্বাসকে। কখনো ইমেইল, আবার কখনো নিউ আলিপুরের বাড়িতে নোটিস পাঠিয়ে হাজিরা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল পুলিশ। প্রথমবার অসুস্থতার দোহাই দিলেও সেই সংক্রান্ত কোনো নথি দাখিল করতে পারেননি মন্ত্রী। গ্রেপ্তারি এড়াতে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থও হয়েছিলেন। কিন্তু তদন্তের প্রয়োজনে অরূপের বয়ান রেকর্ড করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছিল।

এই মামলার তদন্তের স্বার্থে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট লিওনেল মেসির টিমের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল। ইমেইলের উত্তরে মেসির টিম সরাসরি আঙুল তুলেছে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর দিকেই। অভিযোগ পত্রে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, মাঠে মেসির শারীরিক সুরক্ষা বিঘ্নিত হয়েছিল তৎকালীন মন্ত্রীর অশোভন আচরণের কারণেই। মেসিকে বারবার স্পর্শ করা, কাঁধে ও কোমরে হাত দেওয়া এবং অনুমতিহীন ব্যক্তিদের মাঠে প্রবেশ করানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। যেখানে মাঠে মাত্র তিনজন ফটোগ্রাফারের অনুমতি ছিল, সেখানে প্রায় ৪০ জনকে প্রবেশ করানোয় নিরাপত্তা প্রোটোকল ভেঙে পড়েছিল বলে দাবি মেসির টিমের। যার জেরে মেসি অনুষ্ঠানস্থল থেকে বিরক্ত হয়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন।

তদন্তকারীদের দাবি, শতদ্রু দত্তর করা লিখিত অভিযোগে যে ২২ হাজার টিকিট আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে, তা বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আজ সকাল থেকেই থানার চারপাশে ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। ঠিক যেন চিত্রনাট্যের মতো, সোশ্যাল মিডিয়ায় শতদ্রু দত্তর আগাম ইঙ্গিতই সত্যি হলো। অরূপ বিশ্বাসের এই হাজিরা এখন রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্ত কতদূর এগোয় এবং প্রাক্তন মন্ত্রীর বয়ানে কী তথ্য উঠে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।