৭০ লক্ষের তোলাবাজি! গ্রেফতার প্রাক্তন কাউন্সিলর শামস ইকবাল, শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য

শহরের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলে সোমবার সকাল থেকেই তোলপাড়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গ্রেফতার হলেন প্রাক্তন কাউন্সিলর শামস ইকবাল। কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গতকাল গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে পাকড়াও করে। জানা গেছে, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে চলা প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার তোলাবাজির একটি চাঞ্চল্যকর মামলার সূত্র ধরেই এই গ্রেফতারি।

ঠিক কী ঘটেছিল? অভিযোগকারী এক ব্যবসায়ীর বয়ান অনুযায়ী, শামস ইকবাল, মোঃ ফারাজ এবং ফিরোজ কুরেশী সহ তাঁদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোর করে টাকা আদায় করে আসছিল। অভিযোগ, স্থানীয় এলাকায় ব্যবসা চালাতে গেলে ‘শান্তিতে ব্যবসা করার’ অজুহাতে প্রথমে ৭০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্র। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, টাকা নেওয়ার পরেও অভিযুক্তদের লোভ কমে যায়নি। এরপর আরও টাকার দাবিতে ওই ব্যবসায়ীকে রিভলভার দেখিয়ে ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ। কলকাতার এক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ঘটনায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক বিরাজ করছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ‘প্রোটেকশন মানি’ আদায়ের নামে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছিল।

শামস ইকবাল একসময় স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক প্রভাব এবং স্থানীয় কানেকশনের কারণে সাধারণ মানুষ বা অন্য ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ সময় তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাননি। কিন্তু ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় অবশেষে ওই ব্যবসায়ী থানায় এফআইআর দায়ের করেন। ওই এফআইআরে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, অভিযুক্তরা একটি সুসংগঠিত চক্রের মতো কাজ করেছে। ব্যবসায়ীর দাবি, এই তোলাবাজির জেরে তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। ছেলেমেয়েদের স্কুল যাওয়া থেকে স্ত্রীর স্বাভাবিক চলাফেরা—সবকিছুতেই নেমে এসেছিল আতঙ্কের ছায়া।

পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শহরের ব্যবসায়িক পরিবেশ ও সুরক্ষার খাতিরে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, “অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, আইন আইনের পথে চলবে। কোনো রাজনৈতিক প্রভাবকে আমরা আমল দিচ্ছি না।” গ্রেফতারের পর আজ শামস ইকবালকে আদালতে তোলা হয়, যেখানে আদালত তাঁকে কয়েকদিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ এখন এই চক্রের বাকি সদস্য অর্থাৎ মোঃ ফারাজ, ফিরোজ কুরেশী এবং অন্যান্য পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে জোর তল্লাশি শুরু করেছে। প্রাক্তন এই কাউন্সিলরের গ্রেফতারির পর স্থানীয় এলাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।