“স্বাভাবিক নিয়মেই শুনানি হবে”, বিদেশযাত্রা মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বড় বার্তা হাইকোর্টের

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার আবেদন নিয়ে আবারও বড়সড় আইনি ধাক্কা খেলেন। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বিদেশযাত্রার অনুমতির জন্য আদালতে দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে সেই আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই মামলার জন্য কোনও বিশেষ বা দ্রুত শুনানির প্রয়োজন নেই। মামলার শুনানি তালিকা অনুযায়ী তার নির্ধারিত সময়েই হবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে দ্রুত শুনানির আর্জি জানালেও আদালত তাতে সায় দেয়নি।
কিছুদিন আগেই একটি বিতর্কিত অডিও ক্লিপ এবং সিআইডির কণ্ঠস্বর নমুনা সংগ্রহের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য ছিল, যেহেতু ওই কণ্ঠস্বরটি যে তাঁর, তা তিনি অস্বীকার করেননি, তাই নতুন করে কণ্ঠস্বর নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন কেন? এই প্রেক্ষিতেই তিনি দ্রুত বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তে এখন বিদেশযাত্রার পথ আরও কিছুটা দীর্ঘায়িত হলো বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অন্যদিকে, এই মামলা চলাকালীনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের জন্য আরও বড় বিপদ নেমে এসেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আবেদন হাইকোর্টে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে সুমিত রায়ের মামলাটির শুনানি ছিল। বিচারপতি এদিন স্পষ্টভাষায় জানিয়েছেন, সুমিতের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন নয়। তিনি বলেন, “সরকারের জমি জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অন্তত ১০টি জাল দলিল উদ্ধার হয়েছে এবং বিএলআরও-এর সিলমোহরও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।”
তদন্তের নথিতে উঠে এসেছে যে, সুজয় হাজরার মাধ্যমে এই দুর্নীতির টাকা ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পৌঁছত। বিচারপতি সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি জমি জালিয়াতির অভিযোগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন এবং রাজ্য সরকারকে মামলার রিপোর্ট ও কেস ডায়েরি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শালবনি জমি জালিয়াতি মামলায় ইতিমধ্যেই সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। সোমবার সুমিতের আগাম জামিন মামলার পরবর্তী শুনানি। সব মিলিয়ে, একদিকে অভিষেকের আইনি লড়াই এবং অন্যদিকে তাঁর আপ্তসহায়কের জমি দুর্নীতি মামলা—তৃণমূলের অন্দরে এখন এক গভীর অস্বস্তির মেঘ জমেছে। বিচারব্যবস্থা এবং প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে আগামী দিনগুলোতে তৃণমূল নেতৃত্বের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।