৬ থেকে ১৪ নভেম্বর বন্ধ বড়মার মন্দিরের দরজা, জেনে নিন দণ্ডি কাটা ও পুজোর নতুন নিয়ম

কালীপুজোর আগেই নৈহাটির বিখ্যাত বড়মার মন্দির নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল পুজো কমিটি। আগামী ৬ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সাধারণ ভক্তদের জন্য বন্ধ রাখা হবে মূল মন্দিরের দরজা। তবে এই নিয়ম নতুন নয়, প্রতি বছরই শ্যামাপূজোর সময়ে মন্দিরে ভক্তদের প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়।

দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকলেও এই সময়কালে মন্দিরের ভেতরে মায়ের নিত্যপূজা নিয়ম মেনেই চলবে। তবে মন্দিরে বসে ভোগ বা প্রসাদ গ্রহণের ব্যবস্থা আপাতত বন্ধ থাকবে।

🚪 কেন বন্ধ থাকছে মন্দির?

কালীপুজোর সময়ে মূল মন্দিরের দরজা বন্ধ রেখে বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালানো হয়। এই দিনগুলিতে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ নতুন করে রং করা হয় এবং মায়ের প্রতিমার অঙ্গরাগ সম্পন্ন করা হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন প্রথা মেনে মায়ের কাঠামো পুজো ইতিপূর্বে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর বড়মার মন্দিরের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রতিষ্ঠা পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। এরপর ৮ নভেম্বর কালীপুজোর মূল আয়োজন ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে পুজো কমিটির প্রস্তুতি।

🛡️ চোরবাগান কাণ্ডের পর নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ:

সম্প্রতি কলকাতার চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে নৈহাটিতে কোনোভাবেই না ঘটে, তার জন্য নেওয়া হচ্ছে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

  • পুলিশি বৈঠক: ভিড় ও ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করতে ব্যারাকপুর পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিশেষ বৈঠকে বসবে মন্দির কমিটি।

  • বিশাল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী: ভিড় সামলাতে ও সহায়তার জন্য ময়দানে নামানো হচ্ছে প্রায় ৫০০ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক।

⏱️ দণ্ডি কাটা ও মানতের সময়সীমা:

লক্ষ লক্ষ ভক্তের আবেগের কথা মাথায় রেখে দণ্ডি কাটার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে:

  • দণ্ডি কাটার সময়: ৭ নভেম্বর থেকে দণ্ডি কাটা শুরু হবে এবং ৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তা শেষ করতে হবে। সময়ের পর এলে পুলিশি নির্দেশিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা: দণ্ডি কাটার লাইনে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের উদ্ধারে থাকবে বিশেষ ‘রেসকিউ টিম’, পর্যাপ্ত ORS, জীবনদায়ী ওষুধ, মেডিক্যাল টিম এবং দ্রুত চলাচলের জন্য ‘টোটো অ্যাম্বুল্যান্স’।

💍 প্রণামী, সোনা দান ও অনলাইন পুজো:

  • সোনা ও প্রণামী জমা: মানতের সোনা-দানা ও প্রণামী জমা নেওয়া হবে ২ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত।

  • ফল ও মিষ্টির ডালি: ৭ ও ৮ নভেম্বর ভক্তদের আনা ফল ও মিষ্টির ডালি গ্রহণ করা হবে।

  • অনলাইন ব্যবস্থা: দূর-দূরান্তের ভক্তদের সুবিধার্থে চালু থাকছে অনলাইন পুজোর বন্দোবস্ত। এছাড়া প্রসাদ বিতরণের জন্য রেললাইনের উল্টো পারেও বিশেষ কাউন্টার খোলা হচ্ছে।