সিনেমার দৃশ্য হার মানাল! হাসপাতালের পঞ্চম তলার গ্রিল ভেঙে চাদর ঝুলিয়ে বন্দির পলায়ন, তারপর..

সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানানোর মতো এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে বিহারের মাধেপুরায়। হাসপাতালের ওয়ার্ডের লোহার গ্রিল ভেঙে এবং বিছানার চাদর ঝুলিয়ে সোজা পঞ্চম তলা থেকে নিচে নেমে পালিয়েছিল দুই বিচারাধীন বন্দি। এই দুঃসাহসিক ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। দ্রুত শুরু হয় তল্লাশি অভিযান, আর শেষ পর্যন্ত পুলিশ দুই বন্দিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল মাধেপুরার হাসপাতালে?

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, বিহারের মাধেপুরার জেএনকেটি মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য ভর্তি ছিল দুই বন্দি। কিন্তু হাসপাতালের চত্বরে কড়া নিরাপত্তার কথা থাকলেও তা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তারা পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। ওই দুই বন্দি হাসপাতালের পঞ্চম তলার শৌচাগার বা ওয়ার্ডের লোহার গ্রিল ও পাইপ ভেঙে ফেলার পথ তৈরি করে। এরপর বিছানার চাদর একসঙ্গে বেঁধে সেটিকে রশির মতো ঝুলিয়ে দেয় এবং সেই চাদর বেয়েই একেবারে পঞ্চম তলা থেকে মাটিতে নেমে আসে। তারপর হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ফাঁকি দিয়ে চম্পট দেয় তারা।

এই রোমহর্ষক পলায়নের খবর প্রকাশ্যে আসতেই পুলিশ প্রশাসনের ঘুম উড়ে যায়। হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্রে এই ধরনের ঘটনা সেখানকার নিরাপত্তা এবং নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

গ্রেপ্তার দুই অভিযুক্ত

পুলিশের দল দ্রুত তৎপর হয়ে এই পলাতক বন্দিদের ধরতে ময়দানে নামে। বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে দুই বন্দিকেই গ্রেপ্তার করেছে মাধেপুরা পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত দুই অভিযুক্তের নাম মোহাম্মদ ইসলাম ওরফে মোহাম্মদ জুগনু, যিনি শঙ্করপুর থানা এলাকার মাধেলি বাজারের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মোহাম্মদ হাজার ওরফে আব্বু হাজার, যিনি সিংগেশ্বর থানা এলাকার জাজহাট সবৈলা পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। চিকিৎসার অজুহাতে হাসপাতালে থেকে এই ধরনের পরিকল্পনা করায় তাদের বিরুদ্ধে পুলিশি কড়াকড়ি আরও বাড়িয়েছে প্রশাসন।