ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড: এই জাদুকরী চোখের ফাঁদেই কি রোজ আটকে যান কোহলি-রোহিতরা? স্যান্টনারের আসল রহস্য ফাঁস!

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে টিম ইন্ডিয়া দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও, কিউই স্পিনার মিচেল স্যান্টনার বরাবরই ভারতীয় শিবিরের বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতেও তাঁর বোলিং আক্রমণ ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বেশ ভালোই বেকায়দায় ফেলেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন স্যান্টনারের বল সামলাতে গিয়ে বারবার হিমশিম খান তারকা ব্যাটাররা? কী রয়েছে তাঁর বোলিংয়ের নেপথ্যে?

১. ‘শিকারের’ চোখের ভাষা পড়েন যিনি

বেশিরভাগ স্পিনার বল করার সময় সাধারণত ব্যাটসম্যানের পায়ের দিকে ফোকাস করেন। তবে স্যান্টনারের স্টাইল একেবারেই আলাদা। তিনি ব্যাটসম্যানের সূক্ষ্ম অঙ্গভঙ্গি এবং শরীরের ওজন কোন দিকে ঝুঁকছে, তা নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

২০২৩ বিশ্বকাপের সময় নিজের বোলিং কৌশল নিয়ে স্যান্টনার বলেছিলেন, “আপনাকে ব্যাটারদের প্রতিটি অংশ যতটা সম্ভব কাছ থেকে দেখতে হবে। বিশেষ করে যখন পিচ ফ্ল্যাট থাকে, তখন আমি তাদের আরও নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করি।”

২. ফুটবলের পেনাল্টি স্টাইল রান-আপ

স্যান্টনার তাঁর রান-আপেও বৈচিত্র্য এনে থাকেন, যা অনেকটা ফুটবলের পেনাল্টি টেকারদের মতো। এই অভিনব রান-আপের মাধ্যমে তিনি ব্যাটসম্যানকে আগে থেকেই ভুল শট খেলতে বা দ্রুত পা সরাতে বাধ্য করেন। তাঁর এই ক্ষিপ্র বুদ্ধিমত্তা ব্যাটারদের পরিকল্পনা মুহূর্তের মধ্যে ভণ্ডুল করে দেয়।

৩. বৈচিত্র্যের পসরা ও কব্জির জাদুকরী কায়দা

স্যান্টনারের ডেলিভারিতে সাধারণত বল বাইরে বা ভেতরে যাওয়ার চেনা বৈচিত্র্য তো থাকেই, এর সঙ্গে যুক্ত হয় তাঁর মারাত্মক টপস্পিন (যা পিচে পড়ে হঠাৎ লাফিয়ে ওঠে) এবং সাইডস্পিন (যা তীব্র গতিতে বাইরে বেরিয়ে যায়)।

নিজের এই বোলিং রহস্য নিয়ে এক ক্রিকেট পোর্টালের ভিডিওতে স্যান্টনার খোলসা করেছিলেন:

  • সাইড স্পিন: এই ডেলিভারির জন্য তিনি হাতের তালু সামনের দিকে রাখেন।

  • ওভার স্পিন বা টপ স্পিন: এর জন্য হাতের তালু ওপরের দিকে থাকে।

  • আন্ডার স্পিনার: পিচ থেকে দ্রুত স্কিড করে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি হাতের তালু পেছনের দিকে রেখে কব্জি ঘোরান।

তিনি আরও পরামর্শ দেন, “প্রথমে কব্জিতে ঘূর্ণন বা রোটেশন আনা শিখুন, তারপর নিখুঁত লাইন-লেন্থের ওপর জোর দিন।”

টেস্ট হোক বা টি-টোয়েন্টি—স্যান্টনারের এই সুক্ষ্ম মানসিক গেম এবং বৈচিত্র্যময় বোলিংই তাঁকে বর্তমান ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ও বিপজ্জনক স্পিনারে পরিণত করেছে।