ইএমআই দিতে মাত্র একদিন দেরি? অজান্তেই বড় ক্ষতি হচ্ছে না তো আপনার? জেনে নিন আসল নিয়ম!

হোম লোন, কার লোন কিংবা পার্সোনাল লোন—সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করা প্রতিটি ঋণগ্রহীতার অন্যতম বড় দায়িত্ব। কিন্তু নানা কারণে অনেক সময় নির্ধারিত দিনে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ইএমআই কাটতে ব্যর্থ হয়। অনেক সময় পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না থাকা বা ব্যাংকিং ব্যবস্থার সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও পেমেন্ট আটকে যায়। আর ঠিক এখানেই তৈরি হয় এক বড় সংশয়। মাত্র একদিনের সামান্য বিলম্বে কি আপনার কষ্টার্জিত ক্রেডিট স্কোরের বারোটা বেজে যেতে পারে?

নিয়মের বেড়াজাল এবং ব্যাংকের কড়াকড়ি

বিশেষজ্ঞদের মতে, লোন বা ঋণের চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখের ঠিক পরের দিনই পেমেন্ট না পেলে ব্যাংকগুলো সাধারণত তা বকেয়া বা ডিফল্ট হিসেবে গণ্য করতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে আপনার ক্রেডিট স্কোর রাতারাতি তলানিতে ঠেকে যাবে।

সাধারণত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো টানা ৩০ দিন বা তার বেশি সময় পেমেন্ট বকেয়া না থাকলে সেই তথ্য ক্রেডিট ইনফরমেশন কোম্পানি বা ক্রেডিট ব্যুরোগুলোর কাছে পাঠায় না। অর্থাৎ, একদিনের বিলম্বের কারণে আপনার ক্রেডিট স্কোর সরাসরি কমে যাওয়ার কোনো পূর্বনির্ধারিত বা বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই।

অতিরিক্ত চার্জ ও পেমেন্টের চাপ

ক্রেডিট স্কোরে সরাসরি বড় আঘাত না আসলেও, একদিনের বিলম্বের ক্ষেত্রেও ব্যাংকগুলো ছাড় দেয় না। চুক্তির শর্তাবলী অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ডেডলাইনের পর পেমেন্ট করলে ব্যাংকগুলো লেট ফি বা অতিরিক্ত জরিমানা চার্জ আরোপ করতে পারে। এছাড়া ইনাফ ব্যালেন্স না থাকার কারণে অনেক সময় ব্যাংক বা আপনার নিজের অ্যাকাউন্ট থেকেও বাউন্স চার্জ কাটা হয়।

সুরক্ষিত থাকার উপায়

  • অটো-ডেবিট সচল রাখুন: অ্যাকাউন্ট নিয়মিত পর্যাপ্ত সচল রাখুন যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তি কেটে নিতে কোনো সমস্যা না হয়।

  • জরুরি তহবিল তৈরি করুন: যেকোনো মাসের অপ্রত্যাশিত আর্থিক সংকটের কথা মাথায় রেখে সবসময় কিছু ব্যাকআপ টাকা হাতে রাখুন।

  • ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ: কোনো কারণে পেমেন্ট আটকে গেলে দেরি না করে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা মিটিয়ে নিন।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, মাত্র একদিনের বিলম্বের কারণে আপনার ক্রেডিট স্কোর রাতারাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না ঠিকই, তবে এই অভ্যাসটি দীর্ঘমেয়াদে বড় আর্থিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই যথাসময়ে পেমেন্ট নিশ্চিত করাই সবসময় বুদ্ধিমানের কাজ।