৬৪ দলের বিশ্বকাপ! বড় ঘোষণা ফিফা প্রেসিডেন্টের, ফুটবল বিশ্ব কি তবে বদলে যাচ্ছে?

৪৮ দলের বিশ্বকাপের সাফল্যের পর এবার কি আরও বড় হওয়ার পথে ফিফা বিশ্বকাপ? ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৪ করার ইঙ্গিত দিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে ইতিমধ্যে জল্পনা তুঙ্গে।
সাফল্যই প্রেরণা: সুইস সংবাদমাধ্যম ‘ব্লুউইন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো জানান, ২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ৪৮ দলের বিশ্বকাপ ‘১০০ শতাংশ সফল’ হয়েছে। শুরুতে সমালোচকরা এই নতুন ফর্ম্যাট নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও, মাঠের পারফরম্যান্স সেই আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করেছে। ইনফান্তিনোর মতে, ছোট দেশগুলোকে বিশ্বমঞ্চে খেলার সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমেই ফুটবলের মানোন্নয়ন সম্ভব। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ কেবল ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার নয়, এটি গোটা বিশ্বের।
কী হতে পারে ৬৪ দলের ফর্ম্যাট? ইনফান্তিনোর ইঙ্গিত অনুযায়ী, ৬৪ দলের টুর্নামেন্ট হলে বিশ্বকাপের চিত্রটা আমূল বদলে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন:
গ্রুপ বিভাজন: ১৬টি গ্রুপে ৪টি করে দল নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজিত হতে পারে।
সহজ নিয়ম: প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেবে, ফলে তৃতীয় স্থানে থাকা দল নিয়ে বর্তমানের মতো জটিলতা থাকবে না।
ম্যাচের সংখ্যা: ৬৪ দলের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে টুর্নামেন্টে মোট ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১২৮টিতে।
বিতর্কের মেঘ: তবে এই বড় পরিকল্পনার পথ মসৃণ হবে না বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা। ম্যাচের সংখ্যা বাড়লে ফুটবলারদের ওপর শারীরিক চাপ বাড়বে। একইসঙ্গে দীর্ঘ টুর্নামেন্টের ফলে ক্লাব ফুটবলের ক্যালেন্ডার ও সূচি নিয়ে উয়েফা (UEFA) এবং বিভিন্ন দেশের লিগ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফিফার সংঘাত বাঁধার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কোথায় বসবে আসর? ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে স্পেন, পর্তুগাল এবং মরক্কো। তবে বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে একটি বিশেষ চমক থাকছে— উদ্বোধনী ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা এবং প্যারাগুয়েতে। তবে ৬৪ দলের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।