৫০ বার ব্যর্থ, গোল্ড মেডেলিস্ট মেধাবীর চরম পথ! কানপুরের ঘটনায় স্তব্ধ শিক্ষামহল

সাফল্যের শীর্ষে থাকা এক মেধাবী জীবন এভাবেই নিভে যাবে, তা যেন ভাবাই যায় না। বিটেক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গোল্ড মেডেলিস্ট, উত্তরপ্রদেশের মেধাতালিকার অন্যতম মুখ—তবুও কর্মজীবনের নিশ্চয়তা পাননি ২৩ বছর বয়সী আনন্দ। প্রায় ৫০ বার সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসলেও চূড়ান্ত সাফল্য না আসায় মানসিক অবসাদের চরম পর্যায়ে পৌঁছে শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী হলেন কানপুরের এই যুবক।
সাফল্যের শিখরে থেকেও অন্ধকার আনন্দ কেবল বিটেক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে নিজের কলেজের টপারই ছিলেন না, ২০২৪ সালের পরীক্ষায় গোটা উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন। তাঁর এই অভাবনীয় কৃতিত্বের জন্য গত ১৩ অগস্ট তাঁকে কলেজের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গোল্ড মেডেল দিয়ে সম্মানিত করা হয়। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক এই সাফল্যের জোরালো আলোও তাঁর কর্মজীবনের অনিশ্চয়তা দূর করতে পারল না।
একটি করুণ চিঠি আত্মহত্যার আগে আনন্দ তাঁর বাবার উদ্দেশে ৫ লাইনের একটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক নোট লিখে গিয়েছেন। সেই চিঠিতে তিনি তাঁর ব্যর্থতার জন্য বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে না পারার যন্ত্রণা থেকেই যে তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন, তা চিঠির প্রতিটি ছত্রে স্পষ্ট।
বেকারত্ব ও মানসিক চাপের ভয়ংকর রূপ এই ঘটনা দেশের বর্তমান যুবসমাজের বেকারত্ব, সরকারি চাকরির জন্য তীব্র প্রতিযোগিতার চাপ এবং এর ফলে তৈরি হওয়া গভীর মানসিক অবসাদের এক ভয়াবহ বাস্তব ছবি তুলে ধরল। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার এই ইঁদুর দৌড়ে বারবার ব্যর্থতা যে তরুণ প্রজন্মের মনে কতটা গভীর ক্ষত তৈরি করছে, এই ঘটনা তারই এক শোকাবহ প্রমাণ।
শিক্ষাগত যোগ্যতায় সেরাদের সেরা হয়েও কেন তিনি সিস্টেমের কাছে হার মানলেন, এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। আনন্দের এই অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর এলাকা ও শিক্ষামহলে।