৫০ বছরের পুরনো নামেই বাজিমাত! ৮ লক্ষ বিক্রির মাইলফলক ছুঁয়ে ইতিহাস গড়ল ‘চেতক’

ভারতীয় ইলেকট্রিক টু-হুইলার বাজারে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করল বাজাজ অটো। পঞ্চাশ বছরের পুরনো সেই আইকনিক ব্র্যান্ড ‘চেতক’-কে আধুনিক ইলেকট্রিক প্রযুক্তিতে মুড়িয়ে বাজারে এনে বাজাজ এখন সাফল্যের শিখরে। সম্প্রতি সংস্থাটি তাদের ইলেকট্রিক স্কুটার বিক্রিতে ৮ লক্ষ ইউনিটের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

রেকর্ড গড়া সাফল্য ‘বাহন’ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২০ থেকে ২৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাজাজ অটো মোট ৮,০০,০৮৫টি ইলেকট্রিক স্কুটার গ্রাহকদের হাতে তুলে দিয়েছে। ওলা ইলেকট্রিক এবং টিভিএস মোটরের পর তৃতীয় সংস্থা হিসেবে এই অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করল বাজাজ। চলতি বছরের জুন মাসটি ইলেকট্রিক টু-হুইলার খাতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই মাসেই টিভিএস মোটর ১০ লক্ষ ইউনিট বিক্রির মাইলফলক ছুঁয়েছে, আর এথার এনার্জি ও গ্রিভস ইলেকট্রিক মোবিলিটিও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

কেন আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী চেতক? ১৯৭২ সালে প্রথম বাজারে আসার পর থেকে কয়েক প্রজন্ম ধরে চেতক ছিল ভারতীয় পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০০৬ সাল পর্যন্ত পেট্রোল মডেলে রাজত্ব করার পর, ২০১৯ সালে বাজাজ সেটিকে এক নতুন ইলেকট্রিক অবতারে ফিরিয়ে আনে। নাম সেই পুরনোই রাখা হয়েছে, কিন্তু প্রযুক্তিতে আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন।

  • মজবুত গঠন: বর্তমানে বাজারে থাকা অধিকাংশ ইলেকট্রিক স্কুটার প্লাস্টিক বডির হলেও, বাজাজ চেতক তার ঐতিহ্য বজায় রেখে সম্পূর্ণ স্টিলের (মেটাল) বডিতে তৈরি। এটি গ্রাহকদের কাছে দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ হিসেবে আস্থা অর্জন করেছে।

  • ফিচার ও পারফরম্যান্স: নিও-রেট্রো ডিজাইন, ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার এবং ৩৫ লিটার আন্ডার-সিট স্টোরেজ একে আধুনিক প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। একবার চার্জে ১২৩ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ (ভ্যারিয়েন্ট ভেদে) একে শহরের দৈনন্দিন চলাচলের জন্য আদর্শ করে তুলেছে।

  • সাশ্রয়ী দাম: ৯৬,৫০৪ টাকা থেকে ১.৩৯ লক্ষ টাকা (এক্স-শোরুম) দামের মধ্যে এই প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা ক্রেতাদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

বাজারের নতুন সমীকরণ বাজাজ চেতকের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, পুরনো ব্র্যান্ড ভ্যালুর সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটলে তা বাজারে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে ওলা ও টিভিএস-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা যখন বাজারে আধিপত্য বজায় রাখছে, তখন বাজাজ তাদের ‘মেটাল বডি’ এবং নির্ভরযোগ্যতার কার্ড খেলে ইলেকট্রিক স্কুটার বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল।