২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক উত্তাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জগদ্দলের জনসভা থেকে এদিন স্রেফ প্রচার নয়, রীতিমতো আত্মবিশ্বাসের সাথে বাংলায় বিজেপি সরকার গড়ার আগাম ঘোষণা করে দিলেন তিনি। প্রখর দাবদাহ উপেক্ষা করে সভায় উপচে পড়া ভিড় দেখে মোদী বলেন, “৪ মে-র পর বিজেপির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আপনাদের আসতে হবে।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
সভার শুরুতেই বাংলার সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি নিজের আবেগের কথা তুলে ধরেন মোদী। তিনি বলেন, “বাংলার মাটির আধ্যাত্মিক অনুভূতি আমার কাছে আশীর্বাদ। এই রাজ্যের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক।” তবে এই আবেগের সুর নিমেষেই বদলে যায় রাজনৈতিক আক্রমণে। মোদী সরাসরি দাবি করেন, বাংলার মানুষের মনে এখন একটাই জেদ— শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন। তিনি বলেন, “বাংলার বাতাসে এখন এক অন্য অনুভূতি রয়েছে। মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করছে এবং সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে বিজেপি।”
তপ্ত আবহাওয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, জনতার এই ভালোবাসা ও উন্মাদনা দেখে তাঁর সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের সাধারণ মানুষের মনোভাব দ্রুত বদলাচ্ছে এবং আসন্ন নির্বাচনে তার প্রতিফলন ব্যালট বক্সে দেখা যাবে। মোদীর কথায়, “আমি পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি, বাংলায় এবার বিজেপি সরকার গড়ছে। মানুষ আর বর্তমান পরিস্থিতি মেনে নিতে চাইছে না।”
সভামঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। গোটা এলাকা ‘জয় শ্রী রাম’ এবং ‘বিজেপি সরকার’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৪ মে-র পর শপথগ্রহণের কথা বলে মোদী কার্যত বিরোধী শিবিরকে মনস্তাত্ত্বিক চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছেন। নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ বাংলার ভোটযুদ্ধকে এক নতুন মাত্রা দিল।





