“৪ থেকে ৮ হাজার টাকা দিয়েও ঠকেছিলেন দর্শকরা!”-মেসি কাণ্ডের টাকা ফেরানোর ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতায় লিওনেল মেসিকে এক ঝলক দেখার জন্য সারা বছরের সঞ্চয় ভেঙে টিকিট কিনেছিলেন বহু ফুটবলপ্রেমী। কিন্তু যুবভারতীর অনুষ্ঠানে অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলার জেরে সেই স্বপ্ন চরম হতাশায় পর্যবসিত হয়েছিল। এবার সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। জাতীয় ক্রীড়া দিবসের এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, মেসির অনুষ্ঠানে টিকিট কেটে প্রতারণার শিকার হওয়া প্রায় ৩৩ হাজার দর্শকের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার জোরালো উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, টিকিটের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৪ হাজার, ৬ হাজার থেকে শুরু করে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। চাকরিজীবী থেকে শুরু করে ফুড ডেলিভারি বয়— অনেকেই প্রিয় তারকাকে সামনে থেকে দেখার জন্য নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ খরচ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা পণ্ড হওয়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এই পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মেসির মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়কে দেখতে গিয়ে যে কেলেঙ্কারি হয়েছে, তা দুর্ভাগ্যজনক। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া মানুষ যেভাবে প্রতারিত হয়েছেন, সেই টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক ও আইনি স্তরে আলোচনা চলছে। যদিও নির্দিষ্ট কোন দিনে টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হবে, সে বিষয়ে দিনক্ষণ স্পষ্ট করেননি তিনি, তবে এ বিষয়ে তিনি যথেষ্ট আশাবাদী।
শুধু টিকিটপ্রত্যাশীদের অর্থ ফেরানোই নয়, বাংলার সামগ্রিক ক্রীড়া পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে কেন্দ্রের ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কেন্দ্র থেকে ১০০ কোটি টাকা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি মিললেও সেই অঙ্কে থেমে থাকতে নারাজ রাজ্য। ডিপিআর বা বিশ বিস্তারিত প্রকল্প নথি তৈরি করে তা দিল্লিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ক্রীড়া দফতরের আধিকারিকদের। প্রয়োজনে কেন্দ্র থেকে ১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান এনে নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং পুরোনো পরিকাঠামো সচল করার বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।