৪৪০ কোটির অ্যাকাউন্ট জব্দ: কার টাকা কোথায় গেল? কুণালের নিশানায় দুই ‘বিপ্লবী’ নেতা

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তহবিল নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। সম্প্রতি দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া এবং তাতে ৪৪০ কোটি টাকা আটকে যাওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার সরাসরি দলীয় সহকর্মী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে আক্রমণ করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, বিধায়ক হওয়ার প্রচারের জন্য এই নেতারা দলীয় তহবিলের টাকা নয়ছয় করেছেন।
কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক দাবি: সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ দাবি করেন যে, নির্দিষ্ট কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দলীয় ডোনেশনের টাকা ব্যক্তিগত নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করা হয়েছে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়: কুণাল ঘোষের অভিযোগ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়ক হওয়ার জন্য নিজস্ব প্রচারে ২৫ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন, যা এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে আরটিজিএস (RTGS) করা হয়েছে। কুণালের মতে, এটি সরাসরি দলীয় তহবিল থেকে ব্যক্তিগত খাতে খরচ।
সন্দীপন সাহা: কুণাল ঘোষের কটাক্ষের শিকার হয়েছেন সন্দীপন সাহাও। কুণালের দাবি, এন্টালির নির্বাচনে সন্দীপন মোট ২৭ লক্ষ ১ হাজার ৩৭২ টাকা খরচ করেছেন। যার মধ্যে অন্তত ২৫ লক্ষ টাকা দলীয় অ্যাকাউন্ট থেকেই এসেছে। সন্দীপনকে ‘বিপ্লবী’ বলে কটাক্ষ করে কুণাল বলেন, “দলের প্রতীকে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখিয়ে ভোট চেয়ে, আজ সেই দলের বিরুদ্ধেই পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাচ্ছেন তাঁরা?”
কীভাবে এই বিতর্কের সূত্রপাত? মূলত দলের নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে দুটি শিবিরের সৃষ্টি হয়েছে। অরূপ বিশ্বাস ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে লেনদেন বন্ধের অনুরোধ করার পরেই ঋতব্রত শিবির সাইবার থানায় অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বর্তমানে পুলিশের নির্দেশে তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ‘ডেবিট ফ্রিজ’ করা হয়েছে, যার ফলে ৪৪০ কোটি টাকা বর্তমানে ব্যবহারের অযোগ্য।
রাজনৈতিক চাপানউতোর দলের নির্বাচনী প্রচারের টাকা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের এই গুরুতর অভিযোগ তৃণমূলের অন্দরে কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। একদিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যখন এই অভিযোগগুলো মোকাবিলা করার চেষ্টা করছেন, তখন কুণাল ঘোষের এই বিস্ফোরক মন্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এল।
অভিযুক্ত নেতাদের পক্ষ থেকে অবশ্য এই বিষয়ে এখনো কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজ্য রাজনীতিতে এই আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ নতুন কোনো মোড় নেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।