যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াই ইরান চুক্তি? সৌদি-কাতার-ওমানের গোপন পরিকল্পনা ফাঁস

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ইরান চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান। এই তিনটি প্রভাবশালী উপসাগরীয় দেশ মনে করছে, চুক্তির সফল বাস্তবায়নের জন্য আমেরিকার উপস্থিতি বর্তমানে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। এই দেশগুলোর দাবি, ওয়াশিংটনের জড়িয়ে থাকার কারণেই ইরান চুক্তিটি কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উল্লেখ্য, এর আগে ইরান চুক্তি থেকে ইসরায়েলকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা চুক্তিটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এবার সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে রিয়াধ, দোহা এবং মাস্কাট।

পরবর্তী পদক্ষেপ: আগস্টের লক্ষ্যমাত্রা ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তিনটি দেশ ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য স্থির করেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কাতারে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। মূলত এই বৈঠকের পরই যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, অস্থায়ী চুক্তিটিকে স্থায়ী এবং বাস্তবায়নের উপযোগী করতেই এই কৌশলী পদক্ষেপ নিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ যদি এই পরিকল্পনা সফল হয়, তবে তা বিশ্বরাজনীতিতে আমেরিকার প্রভাবের ক্ষেত্রে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে গণ্য হবে। ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি বোঝাপড়া হলে তা দীর্ঘদিনের চলমান অস্থিতিশীলতায় নতুন মোড় আনতে পারে। তবে ওয়াশিংটন এই পরিকল্পনাকে কীভাবে দেখছে বা তার প্রতিক্রিয়া কী হবে, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।