রাজনীতির হাতিয়ার শিশু? বালেন শাহের দলের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, চাপে সরকার

নেপালের রাজনীতিতে এখন তুঙ্গে বিতর্ক। প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (RSP)-র সদস্য তালিকা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং দলের কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য শিশুদের ব্যবহার করছে আরএসপি।

যে তথ্য ঘিরে বিতর্ক সম্প্রতি ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, আরএসপির মোট ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ৪৬৫ জন সদস্যের মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার ২৫৭ জনই ১৮ বছরের কম বয়সী নাবালক। এই তথ্যের ভিত্তিতেই দানা বেঁধেছে বিতর্ক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি নাবালক সদস্য রয়েছে বাগমতী প্রদেশে (১৩,০১১ জন)। এছাড়া কোশী, গণ্ডকী এবং অন্যান্য প্রদেশেও বিপুল সংখ্যক শিশুকে সদস্য করার তথ্য মিলেছে।

বিরোধীদের তোপ ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রধান বিরোধী দল ‘নেপালি কংগ্রেস’ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছে, রাজনৈতিক অভিসন্ধি চরিতার্থ করতেই শিশুদের দলের সদস্য করা হয়েছে। বাল অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নেপালের সংবিধান, নির্বাচনী আইন এবং শিশুদের অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন করেছে আরএসপি।

সংগঠনগুলোর বক্তব্য, জাতিসংঘের ‘কনভেনশন অন দ্য রাইটস অফ দ্য চাইল্ড’-এর স্বাক্ষরকারী দেশ নেপাল। শিশুদের জোর করে বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। ‘চিলড্রেন এজ জোনস অফ পিস ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন’-এর মতো একাধিক সংগঠন অবিলম্বে এই নাবালক সদস্যদের সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানিয়েছে। সেই সঙ্গে নেপালের নির্বাচন কমিশন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের অনুরোধ করা হয়েছে।

দলের নীরবতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন আরএসপি নিজেদের নেপালের রাজনীতিতে ‘পরিবর্তনের প্রতীক’ হিসেবে তুলে ধরে। কিন্তু এই ঘটনায় দলের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। নাবালক সদস্যপদ নিয়ে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি দলের সমস্যা নয়, বরং নেপালের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সদস্য তালিকা যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার দুর্বলতাকেও সামনে এনেছে।