আমাদের মধ্যে অনেকেই ৪০ বছর বয়স পার করার পরেও ভাবি যে আমরা সম্পূর্ণ সুস্থ। বাহ্যিক চনমনে ভাব দেখে শরীরের ভেতরের ক্ষয় বুঝতে পারি না। কিন্তু ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অফিস (NSO)-এর সাম্প্রতিক তথ্য এক ভয়াবহ বাস্তবকে সামনে নিয়ে এসেছে। এই সমীক্ষা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বয়স ৪৫ বছর অতিক্রম করার পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। অর্থাৎ, শরীরে বার্ধক্যের ছাপ না পড়লেও ভেতরে ভেতরে কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করে দ্রুত গতিতে।
কেন ৪৫ বছর বয়সেই বিপদের ঘণ্টা বাজে?
NSO-এর তথ্য স্পষ্টভাবে বলছে যে, ৪৫ বছরের পর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম আগের মতো শক্তিশালী থাকে না। ফলে যেকোনো সাধারণ সংক্রমণ বা অসুস্থতা এই বয়সে অনেক বেশি জাঁকিয়ে বসে। শুধু তাই নয়, শরীরের স্বতঃস্ফূর্ত সেরে ওঠার ক্ষমতা (Healing Process) মন্থর হয়ে যায়। ফলে ছোটখাটো সমস্যাগুলো দ্রুত বড় আকার ধারণ করে এবং রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন পড়ে।
NSO গবেষণার ফলাফল:
সমগ্র দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৫ বছরের নিচের ব্যক্তিদের তুলনায় ৪৫-উর্ধ্ব ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য হসপিটালাইজেশনের সম্ভাবনা অনেক বেশি। এই পরিসংখ্যানে স্পষ্ট যে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্বাস্থ্যঝুঁকি আর গাণিতিক হারে নয়, বরং জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে।
কোন অসুখগুলো ঘাতক হয়ে উঠছে?
এই বয়সের পর জীবনযাত্রার সাথে সম্পর্কিত বা ‘লাইফস্টাইল ডিজিজ’গুলোই প্রধান ভিলেন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। সময়মতো এই সাইলেন্ট কিলারগুলোকে নিয়ন্ত্রণে না আনলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে।
নারী না পুরুষ: কারা বেশি ঝুঁকিতে?
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের হাসপাতালে ভর্তির হার কিছুটা বেশি হলেও মহিলাদের ঝুঁকি কোনো অংশেই কম নয়। বিশেষ করে ৪৫-এর পর মহিলাদের শরীরে বড় ধরনের হরমোন পরিবর্তন হয়, যা হাড়ের সমস্যা থেকে শুরু করে হার্টের জটিলতা—নানা রোগের জন্ম দেয়। তাই দু’পক্ষকেই সমানভাবে সতর্ক থাকতে হবে।
শহর বনাম গ্রাম: পরিসংখ্যানের খেলা:
NSO-এর তথ্যে দেখা গেছে, শহরাঞ্চলে হাসপাতালে ভর্তির হার গ্রামের তুলনায় বেশি। এর কারণ এই নয় যে শহরের মানুষ বেশি অসুস্থ। বরং শহরে চিকিৎসা পরিষেবা হাতের নাগালে থাকায় মানুষ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে গ্রামে পরিকাঠামোর অভাবে অনেকেই অসুস্থতা নিয়ে বাড়িতে পড়ে থাকেন, যা পরিসংখ্যানে অনেক সময় উঠে আসে না।
বাঁচার উপায় কী?
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ৪৫-এর পর নিয়মিত ‘ফুল বডি চেকআপ’ করানো বাধ্যতামূলক। এছাড়া সুষম খাবার, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম বজায় রাখতে হবে। মনে রাখবেন, আজকের ছোট একটু সচেতনতাই আপনার আগামীকালের বড় বিপদ রুখে দিতে পারে।





