“৩ MLA-র ‘দিদি’ প্রীতি”-মমতার পাশে তিন বিধায়ক দাঁড়াতেই অস্বস্তিতে ঋতব্রত শিবির

সংখ্যার বড়াই যতই করা হোক না কেন, রাজনৈতিক সমীকরণে যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে, সোমবারের একটি ঘটনা তা একেবারে জলের মতো পরিষ্কার করে দিয়েছে। হালিশহরে পুলিশের লকআপে মৃত তৃণমূল নেতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে যে ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে, তার তীব্র প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন খোদ ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গেই যুক্ত তিন বিধায়ক। এই ঘটনায় দৃশ্যতই অস্বস্তিতে পড়েছেন সংখ্যার বিচারে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ বলে দাবি করা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের শিবিরের অনৈক্য ঢাকতে ঋতব্রত সাফাই দিয়ে বলেছেন, বিদ্রোহী বিধায়ক বিভাস সর্দার ও তৌসিফ রহমানের দায় তিনি নিতে পারবেন না।

বীজপুরের রাস্তায় মমতার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ ও তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষ

গত রবিবার হালিশহরে পুলিশের লকআপে মৃত তৃণমূল নেতা বিরজু কেওতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বীজপুরের রাস্তায় পৌঁছতেই তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ। চলল গাড়িতে কাদা ও জুতো ছোঁড়ার পাশাপাশি ‘চোর-চোর’ স্লোগান।

এই ঘটনার পর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেন যে এটি সম্পূর্ণ ‘স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ’। অন্যদিকে, ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি গুন্ডাদের দিয়ে এই কাজ করিয়েছে। নিরাপত্তা সম্পূর্ণ ভুলে যান। লুম্পেনদের প্রোটেকশন দিচ্ছে পুলিশ। বাংলা তো লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমরা কেস করব। জানলা বন্ধ না থাকলে আমার মাথা ফেটে যেত। এখানে আমরা মরে যেতাম।”

মমতার ওপর হামলার প্রতিবাদে ঋতব্রত শিবিরে ভাঙন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর এই হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে সরব হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ সহ মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। সেই প্রতিবাদের মিছিলেই দেখা যায় সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী তথা বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।

সবচেয়ে বড় চমক আসে যখন ঋতব্রত শিবিরের তিন বিধায়ককেও এই প্রতিবাদের সুরে কথা বলতে শোনা যায়। এঁরা হলেন— বসিরহাটের বিধায়ক তৌসিফুর রহমান, মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা এবং বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দার

কী বলছেন ঋতব্রত ও বিদ্রোহী বিধায়করা?

শিবিরের অন্দরে এই বিদ্রোহ ও ফাটল প্রসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “বিভাস সর্দার ও তৌসিফের দায়িত্ব আমি নিতে পারব না। আব্দুল খালেক মোল্লা দৃঢ়ভাবে আমাদের সঙ্গে আছেন। আমাদের সংখ্যাটা ৬৫, এর নীচে নামবে না। মনে হলে স্পিকার ডাকতে পারেন, ডাকলেই ৬৫ জন হাজির হয়ে যাবেন।”

অন্যদিকে, কুণাল ঘোষদের পাশে দাঁড়িয়ে খোলাখুলি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বিধায়ক তৌসিফুর রহমান বলেন, “দিদি যেখানে, তৌসিফুর রহমান সেখানে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছাড়া ১০টা ভোটও পাব না। এটাই রিয়েল সিচুয়েশন।”

তৌসিফের এই বিদ্রোহী বার্তার পরেই তাঁকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তৌসিফকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ ও ‘প্যারাট্রুপার প্রার্থী’ আখ্যা দিয়ে ঋতব্রত প্রশ্ন তুলেছেন, “ওঁকে প্রশ্ন করুন, বসিরহাটের আসল বিধায়ক টিকিট পেলেন না কেন? যে ভালো করে বাংলা বলতে পারে না, সে টিকিট পেল কীভাবে? বিদেশে কীসের ব্যবসা আছে তাঁর?” সবমিলিয়ে এই ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।