বাংলার ভোটের ময়দানে এখন মূল লড়াই দুই ‘ভাণ্ডার’-এর। একদিকে তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, অন্যদিকে বিজেপির প্রস্তাবিত ‘অন্নপূর্ণা সম্মানিধি’ প্রকল্প। বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা ক্ষমতায় আসলে মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেবে। কিন্তু ভোট হওয়ার আগেই দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরে এই প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ শুরু হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
হরিরামপুরে কী ঘটল?
খবরে প্রকাশ, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর বিধানসভার ঘাসিপুরে মহিলাদের ‘অন্নপূর্ণা সম্মানিধি’ প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করানো হচ্ছিল। সেখানে মহিলাদের আধার নম্বর ও ব্যাঙ্ক ডিটেইলস সংগ্রহ করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, স্থানীয় বিজেপি নেতারা সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধি (Model Code of Conduct) লঙ্ঘন।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম অন্নপূর্ণা প্রকল্প:
বর্তমানে মমতা সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সাধারণ জাতির মহিলারা মাসে ১০০০ টাকা (কিছু ক্ষেত্রে ১৫০০ টাকার দাবি) এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা ১২০০ টাকা (কিছু ক্ষেত্রে ১৭০০ টাকার উল্লেখ) পাচ্ছেন। বিজেপি দাবি করছে, তাদের ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু হলে মহিলারা সরাসরি ৩ হাজার টাকা পাবেন। অর্থাৎ, ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ময়দানে নেমেছে পদ্ম শিবির।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
তৃণমূলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে হরিরামপুরের বিজেপি প্রার্থী দেবব্রত মজুমদার পালটা যুক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন স্বীকৃত ইস্তাহার বা সংকল্প পত্রই সব জায়গায় দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবসাথী নিয়ে প্রচার করতে পারে, তবে আমাদের ক্ষেত্রে বাধা কেন?”
এদিকে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, মে মাসে কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢোকা বন্ধ হয়ে যাবে? যদিও সরকারিভাবে এমন কোনো ঘোষণা হয়নি, তবুও ভোটের আবহে এই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিরোধীদের দাবি, এই ফর্ম ফিলাপ কেবলই প্রচারের অংশ, অন্যদিকে শাসকদলের মতে এটি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা।





