৪০ কিমি দূর থেকেই খতম হবে শত্রু জাহাজ! ড্রাগন-পাক বাহিনীকে রুখতে ভারতের হাতে নয়া ব্রহ্মাস্ত্র

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য বজায় রাখতে এবং শত্রুপক্ষের সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজকে নিমেষের মধ্যে জলসমাধি দিতে এক বিশাল সাফল্য অর্জন করল ভারত। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে, ভারত ডাইনামিক্স লিমিটেড (BDL) ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য তৈরি করল দেশের প্রথম দেশীয় ‘তার-নির্দেশিত’ (Wire-Guided) হেভিওয়েট টর্পেডো। সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে নৌ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণাগারের (NSTL) কাছে এই অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কী এই ‘তক্ষক’ টর্পেডো?
প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, এই নতুন টর্পেডোটির নাম দেওয়া হতে পারে ‘তক্ষক’। এটি সাধারণ টর্পেডোর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং দূরপাল্লার। এটি মূলত একটি ডুবো অস্ত্র যা শত্রু সাবমেরিন ও জাহাজ ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হয়। এর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর ‘ওয়্যার-গাইডেন্স’ সিস্টেম। অর্থাৎ, টর্পেডোটি উৎক্ষেপণের পরেও ফাইবার অপটিক তারের মাধ্যমে সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। মাঝপথে লক্ষ্যবস্তু দিক পরিবর্তন করলেও চালক অনায়াসেই এই টর্পেডোর গতিপথ বদলে সেটিকে নিশানায় আঘাত হানতে বাধ্য করতে পারবেন।

প্রযুক্তির দিক থেকে কেন এটি অনন্য?
ডিআরডিও (DRDO)-র নকশা করা এই টর্পেডোটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে ঠাসা। এতে রয়েছে:

অ্যাকোস্টিক হোমিং: এটি শত্রুর সাবমেরিনের শব্দ অনুসরণ করে নিখুঁতভাবে এগিয়ে যেতে সক্ষম।

পুনরায় আক্রমণের ক্ষমতা: যদি প্রথম চেষ্টায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, তবে এটি ঘুরে এসে দ্বিতীয়বার আক্রমণ করতে পারে।

অটো মোড: যদি কোনো কারণে নিয়ন্ত্রক তারটি ছিঁড়ে যায়, তবে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তু খুঁজে নেবে।

নিঃশব্দ ঘাতক: এটি জলে নামার সময় কোনো শব্দ করে না এবং এর বৈদ্যুতিক চালনা শক্তি একে অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

নৌবাহিনীর সক্ষমতায় আমূল পরিবর্তন:
এর আগে ভারত ‘বরুণাস্ত্র’ তৈরি করলেও তা মূলত জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণ করা হতো। কিন্তু এই নতুন সিস্টেমটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণের জন্য। এটি সমুদ্রের ৪০০ মিটার গভীরে গিয়েও শত্রুকে খুঁজে বের করতে পারে। এর গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ কিলোমিটার এবং রেঞ্জ প্রায় ৪০ কিমি। এর ফলে ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় চিনের বাড়তে থাকা সাবমেরিন কার্যকলাপ রুখতে ভারতীয় নৌবাহিনী এক কৌশলগত সুবিধা পাবে। এমএসএমই এবং বেসরকারি সংস্থাগুলির সহযোগিতায় তৈরি এই দেশীয় মারণাস্ত্র ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy