নুট-ইউজির ফলাফলে চরম গরমিল! বোম্বে হাইকোর্টের নোটিশে ঘুম উচল এনটিএ-র, তলব করা হলো মূল ওএমআর শিট

দেশজুড়ে বহুচর্চিত ও অত্যন্ত সংবেদনশীল নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার ফলাফলে মারাত্মক অসঙ্গতি এবং নম্বর কারচুপির অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকার ও ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ জোরদার হয়েছে। ফলাফলে নজিরবিহীন গরমিল ও মারাত্মক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে দেশের তিন কৃতী পরীক্ষার্থী—রিচা দেশপান্ডে, সোহম গাওতে এবং অথর্ব জগতাপের করা পৃথক তিনটি আবেদনের প্রেক্ষিতে বোম্বে হাইকোর্ট সরাসরি কেন্দ্র এবং এনটিএ-র বিরুদ্ধে কঠোর নোটিশ জারি করেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, গত ১৬ জুলাই প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলের স্কোরে পরীক্ষার্থীদের ওএমআর (OMR) শিট এবং নিজস্ব উত্তর মিলিয়ে প্রাপ্ত নম্বরের তুলনায় অবিশ্বাস্যভাবে কম নম্বর পাইয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে গোটা দেশের ছাত্রসমাজ ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার অন্যতম আবেদনকারী রিচা দেশপান্ডে আদালতকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি পরীক্ষার নিয়মানুযায়ী অত্যন্ত সততার সঙ্গে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে নিট পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি নিজের মূল উত্তরপত্র ও প্রশ্নপত্রের হিসাব মিলিয়ে নিশ্চিত ছিলেন যে তিনি কমপক্ষে ৬১৯ নম্বর পাবেন। কিন্তু পরবর্তীতে এনটিএ-র পক্ষ থেকে তাঁর ইমেল আইডিতে যে ওএমআর শিট ও স্কোর পাঠানো হয়, তাতে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর মাত্র ২৮০ দেখানো হয়েছে। ওএমআর শিট গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে গণনা করা আনুমানিক স্কোরের সঙ্গে এই প্রকাশিত নম্বরের আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসেছে আদালত। মামলার গুরুত্ব বিচার করে বোম্বে হাইকোর্ট আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের মূল ওএমআর উত্তরপত্র এবং সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি আদালতে জমা দেওয়ার জন্য এনটিএ-কে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে মামলাটিকে জরুরি মামলা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

আদালতে দেওয়া বক্তব্যে রিচা দেশপান্ডে নিজের মানসিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরে জানান, পরীক্ষার এই মারাত্মক অনিয়ম এবং প্রশাসনিক হেয়ালী তাঁর ওপর প্রচণ্ড মানসিক, আবেগিক এবং শারীরিক চাপ তৈরি করেছে। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “এত চাপের পরেও আমি আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে মানবসেবা করার অদম্য ইচ্ছায় এখনও অবিচল রয়েছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, তাঁর কাছে নিজস্ব শক্তপোক্ত প্রমাণ রয়েছে এবং ওএমআর শিটগুলোতে যে অত্যন্ত স্পষ্ট অনিয়ম হয়েছে, তা জলের মতো পরিষ্কার। আদালত যদি নিরপেক্ষভাবে এনটিএ-কে মূল নথি ও ওএমআর জমা দিতে বাধ্য করে, তবে সত্য বেরিয়ে আসবে। কিন্তু যদি এই আবেদন উপেক্ষা করে ত্রুটিপূর্ণ ফলাফলের ভিত্তিতেই কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া হয়, তবে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের একটি গোটা বছর নষ্ট হয়ে যাবে এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ চিরতরে বিপন্ন হবে। তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

রিচার ভাষ্যমতে, পরীক্ষা চলাকালীন নিয়ম মেনেই তিনি প্রশ্নপত্রে তাঁর সঠিক উত্তরগুলো চিহ্নিত করেছিলেন এবং সেই কার্বন শিট বা নথি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে আসার অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে যখন এনটিএ তাদের অফিশিয়াল পোর্টালে ওএমআর উত্তরপত্র এবং স্ক্যান করা ছবি প্রদর্শন করেছিল, তখন তিনি নিজের চোখে দেখেছিলেন যে পোর্টালে তাঁর সঠিক উত্তরগুলোই সঠিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে চূড়ান্ত ফলাফলে কীভাবে নম্বর এত কমে গেল, তা নিয়ে ঘোর রহস্য তৈরি হয়েছে। আগামী শুনানিতে এনটিএ কী সাফাই দেয় এবং আদালত কী রায় দেয়, সেদিকেই এখন গোটা দেশের নজর আটকে রয়েছে।