২৯০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুত! দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনাপ্রবাহ পুনর্নির্মাণে মুজাম্মিলকে ফরিদাবাদের গোপন ডেরাগুলিতে নিয়ে গেল NIA

দিল্লি সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের পেছনের ঘটনাপ্রবাহ পুনর্নির্মাণের জন্য ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) ধৃত আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তার মুজাম্মিল আহমেদ গানাইকে সোমবার ফরিদাবাদের একাধিক জায়গায় নিয়ে যায়। মুজাম্মিলের গোপন আস্তানাগুলোতে তল্লাশির পর তদন্তে নতুন গতি এসেছে।
বিশাল বিস্ফোরক মজুত:
এনআইএ আধিকারিকরা মুজাম্মিলকে সেই দুটি ভাড়া করা ঘরে নিয়ে যান, যেখানে সে বিপুল পরিমাণ অর্থাৎ ২,৯০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুত করেছিল। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট একটি মারাত্মক বিস্ফোরক উপাদান।
মুজাম্মিলকে নিয়ে যাওয়া হয়—
আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস: যেখানে সে থাকত এবং কাজ করত। এই আবাসনটিকেই ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু বলে মনে করা হচ্ছে।
ধৌজ গ্রামের ক্যাব চালকের ঘর: এই ঘরেই সে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, যেমন একটি ইলেকট্রিক গ্রাইন্ডার এবং একটি পোর্টেবল ফার্নেস লুকিয়ে রেখেছিল বলে অভিযোগ। এই ঘর থেকে আগে পুলিশ ৩৫৮ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার করে।
ফতেহপুর টাগার গোপন আস্তানা: বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে মুজাম্মিলের এই দ্বিতীয় গোপন আস্তানা থেকে পুলিশ বিস্ফোরণের একদিন আগে, ২,৬০০ কেজি বিস্ফোরকের বিশাল ভান্ডার উদ্ধার করে।
ষড়যন্ত্রের জাল ও পাক-যোগ:
সূত্রের খবর, মুজাম্মিলের ঘর থেকে আগে উদ্ধার হওয়া ডায়েরিতে একাধিক অভিযানের সাংকেতিক উল্লেখ ছিল, যা একটি গভীর ও বিস্তৃত নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয়। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন যে, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে মুজাম্মিল, ডক্টর উমর উন নবি এবং ডক্টর শাহিন শাহিদের সঙ্গে মিলে এই হামলার ষড়যন্ত্র করেছিল।
তদন্তকারীরা এই তিনজনের সঙ্গে পাকিস্তান এবং তুরস্কের হ্যান্ডলারদের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন। এদিকে, ফরিদাবাদ পুলিশ শহরের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং বাসিন্দাদের ঘর ভাড়া দেওয়া বা সিম কার্ড ইস্যু করার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।