দিঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ ঘিরে বিতর্কের মেঘ কি তবে কাটতে শুরু করেছে? ওড়িশার শাসক দল যখন ‘জগন্নাথ ধাম’ নাম নিয়ে আইনি ও ধর্মীয় আপত্তির পাহাড় খাড়া করছে, ঠিক তখনই উল্টো সুর পুরীর মন্দিরের অন্দরে। জগন্নাথ মহাপ্রভুর প্রধান সেবায়েত তথা দ্বৈতাপতি নিযোগের সভাপতি রামকৃষ্ণ দাস মহাপাত্রের দাবি, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর মহাপ্রভুর বিশেষ আশীর্বাদ রয়েছে।’ শুধু তাই নয়, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বড় ভবিষ্যদ্বাণীও করে ফেললেন তিনি।
আসন সংখ্যা নিয়ে বড় পূর্বাভাস রাজ্য রাজনীতি যখন তুঙ্গে, তখন পুরীর সেবায়েতের এই রাজনৈতিক মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রামকৃষ্ণ দাস মহাপাত্রের দাবি:
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৩৬৫ দিন মানুষের জন্য কাজ করেন। এই নির্বাচনে তিনি ২২১টির বেশি আসন পেয়ে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন।”
বিতর্ক ও সেবায়েতদের দ্বিমত উল্লেখ্য, দিঘায় জগন্নাথ মন্দির তৈরি এবং তাকে ‘ধাম’ হিসেবে অভিহিত করা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে ‘জগন্নাথ ধাম’ শব্দটি পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছিলেন। এমনকি মূর্তির নিমকাঠ চুরি নিয়ে অপবাদও উঠেছিল। পুরীর মন্দিরের সেবায়েতদের একাংশ ক্ষুব্ধ থাকলেও, রামকৃষ্ণ দাস শুরু থেকেই মমতার পাশেই দাঁড়িয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “মমতা খুব সুন্দর মন্দির তৈরি করেছেন, যা ভক্তদের শ্রদ্ধা বাড়িয়ে দেবে।”
ধর্মীয় তোষণ বনাম অধ্যাত্মিক ভাবমূর্তি বিজেপি যখন মমতাকে ‘সংখ্যালঘু তোষণে’র অভিযোগে বিঁধছে, তখন জগন্নাথ মন্দিরের এই প্রভাবশালী সেবায়েতের শংসাপত্র তৃণমূল নেত্রীর হিন্দুত্ব-বিরোধী তকমা ঝেড়ে ফেলতে সাহায্য করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। রামকৃষ্ণ দাসের কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব ধর্মকে সঙ্গে নিয়ে চলেন এবং এটাই তাঁর শক্তির আসল উৎস।
ব্যক্তিগত মত না কি বৃহত্তর বার্তা? পুরীর মন্দিরের বাকি অংশ যখন দিঘার মন্দির নিয়ে সরব, তখন রামকৃষ্ণ দাস মহাপাত্রের এই ব্যক্তিগত সমর্থন কি বিজেপি শাসিত ওড়িশার বর্তমান সরকারের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে? দিঘার সমুদ্র সৈকতে জগন্নাথের ধ্বজা ওড়ার আগেই পুরীর আশীর্বাদ পকেটে পুরে নিলেন মমতা— এমনটাই মনে করছেন ঘাসফুল শিবিরের সমর্থকরা।





