২১ জুলাইয়ের আগেই বড় চমক! পার্লামেন্টে ‘আসল’ তৃণমূলের দাবি পেশের প্রস্তুতি শুরু বিদ্রোহীদের

সোমবার রাজ্য বিধানসভায় বাজেট পেশের ঠিক পরপরই রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল নিউটাউনের একটি অভিজাত পাঁচতারা হোটেল। তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা সেখানে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু করেছেন, যা দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেল।
বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ দিক:
মমতা-বিযুক্ত মঞ্চ: এই প্রথমবার তৃণমূলের কোনো বৈঠকে দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেখা যায়নি। মঞ্চে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধী এবং বি আর অম্বেদকরের ছবি রাখা হয়েছে, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব থেকে বিদ্রোহীদের দূরত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে।
বিদ্রোহীদের শক্তি প্রদর্শন: হোটেলে ২০টিরও বেশি গাড়ি এবং পর্দা দেওয়া বাসে করে বিধায়ক ও হেভিওয়েট নেতারা পৌঁছান। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত নেতারা আজ তাঁর বিরুদ্ধেই জোট বেঁধেছেন।
লক্ষ্য লোগো ও ক্ষমতা: সূত্রের খবর, আজকের এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা হলো তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় লোগো এবং প্রতীকের নিয়ন্ত্রণ। তৃণমূলের বিদ্রোহী অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবশিষ্ট অংশকে পুরোপুরি ‘টেকওভার’ করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে।
সংসদীয় লড়াইয়ের প্রস্তুতি: বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাসে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হবে। আর ঠিক তার আগের দিন, ২১ জুলাই তৃণমূলের শহিদ দিবস। এই সময়টিকেই বেছে নিয়েছেন বিদ্রোহীরা। সংসদের ফ্লোরে গিয়ে স্পিকারের কাছে তারা নিজেদের ‘আসল’ এবং ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ’ তৃণমূল হিসেবে দাবি জানাতে পারেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিউটাউনের এই বৈঠক কেবল একটি জমায়েত নয়, বরং তৃণমূল কংগ্রেসের আইনি ও সাংগঠনিক দখলের চূড়ান্ত লড়াইয়ের শুরু। এখন দেখার বিষয়, পাল্টা ব্যবস্থা নিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।