গণ অভ্যুত্থান নাকি পরিকল্পিত বিদ্রোহ? নিউটাউনের হোটেলে কাউন্সিলরদের গোপন বৈঠকে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বাজেট পেশ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ লড়াই চূড়ান্ত রূপ নিল। সোমবার দুপুরে প্রিন্সেপ ঘাট থেকে দুটি বিশেষ বাসে করে কলকাতা পুরসভার প্রায় ৫০ জনসহ মোট ৭০ জন কাউন্সিলর নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে পৌঁছান। সেখানে আয়োজিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী বর্তমান নেতৃত্বকে কার্যত অস্বীকার করে দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।
বৈঠকের প্রধান সিদ্ধান্তসমূহ:
নেতৃত্বের পরিবর্তন: বিদ্রোহী গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, এখন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী নন। সর্বভারতীয় ওয়ার্কিং কমিটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়কে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাসপেন্ড: সূত্রের খবর, বিদ্রোহীদের এই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নতুন ওয়ার্কিং কমিটি: দলের সংবিধানের ২০ নম্বর ধারার দোহাই দিয়ে বিদ্রোহীরা ২০ সদস্যের একটি নতুন জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করেছে। এছাড়া কোষাধ্যক্ষ হিসেবে আখরুজ্জামানকে নিয়োগ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পটভূমি: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই দলে ভাঙন স্পষ্ট হতে শুরু করে। এর আগে প্রায় ৬০ জন বিধায়ক দল থেকে আলাদা হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। এরপর ২০ জন সাংসদ নিজেদের একটি আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে দাবি করে লোকসভায় স্পিকারের কাছে দরবার করেছেন। সোমবারের এই বৈঠক তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে পুরোপুরি ভেঙে ফেলার দিকে এক বিশাল পদক্ষেপ।
প্রতীকী বার্তা: এদিন নিউটাউনের হোটেলে আয়োজিত বৈঠকে তৃণমূলের দলীয় প্রতীক থাকলেও, মঞ্চে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো ছবি রাখা হয়নি। পরিবর্তে সেখানে স্থান পেয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধী এবং বি আর অম্বেদকরের ছবি। এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে মানসিক ও আদর্শগত দূরত্বের চূড়ান্ত ইঙ্গিত বহন করছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের লোগো এবং প্রতীকের আইনি লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এই ভাঙন ও নতুন কমিটি গঠনের ফলে রাজ্য রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।