সিন্ধু জল চুক্তি ঘিরে ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, ভারতকে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দিল ইসলামাবাদ

সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে ফের ভারত-বিরোধী সুর চড়ালেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি ভারতকে যুদ্ধের হুমকি দিয়ে বলেছেন, দেশের জলস্বার্থ বিঘ্নিত হলে পাকিস্তান সামরিক পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধা করবে না।

কী বললেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী? পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘ARY News’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খোয়াজা আসিফ দাবি করেন, জল পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, “যখনই আমরা মনে করব আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা—যার মধ্যে জলও অন্তর্ভুক্ত—হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই আমরা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে পারি। এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।” ভারতের জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিলের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের সূত্র ধরেই পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৮ সালের মধ্যে সিন্ধু অববাহিকার জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

উত্তেজনার প্রেক্ষাপট: ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি চরমে পৌঁছায়। ২৬ জন নিরপরাধ পর্যটকের প্রাণহানির ওই ঘটনার পরই ভারত ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়। নয়াদিল্লির স্পষ্ট অবস্থান হলো, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

ভারতের অবস্থান: ভারত বরাবরই জানিয়ে আসছে, সন্ত্রাসবাদ এবং জল বণ্টন—এই দুই বিষয়কে আলাদা করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চেও ভারত দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে, ১৯৬০ সালের সেই পুরনো চুক্তি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে ‘আউটডেটেড’ বা অচল। অন্যদিকে, পাকিস্তান বারবার রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি করে ভারতকে চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করার চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নিজের দেশের অভ্যন্তরীণ জলসংকট এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে নজর ঘোরাতেই পাকিস্তান বর্তমানে ভারতের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসী মনোভাব দেখাচ্ছে। ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির মুখে দাঁড়িয়ে ইসলামাবাদের এই যুদ্ধের হুমকি আদতে তাদের চরম অসহায়তার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।