২০ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আর মহাগুরুদের মেলা ব্রিগেডে! নতুন সরকারে মন্ত্রী হচ্ছেন কারা? জল্পনা উসকে দিল এই নামগুলো

বাংলার রাজনৈতিক আকাশে পরিবর্তনের নতুন সূর্যোদয়। শনিবার, ২৫ বৈশাখের পুণ্য প্রভাতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে কলকাতা। রাজভবনের চার দেওয়াল পেরিয়ে এবার জনসমুদ্রের মাঝে, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার। সকাল ১১টা থেকে শুরু হতে চলা এই মেগা ইভেন্টকে ঘিরে এখন টানটান উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে উৎসবের আবহেও সবথেকে বড় প্রশ্ন যা ঘুরপাক খাচ্ছে তা হল— কে বসছেন বাংলার মসনদে?
মহা-শপথের মেগা আয়োজন
সূত্রের খবর, এই রাজকীয় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে চলেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুধু তাই নয়, বিজেপির সর্বভারতীয় পর্যবেক্ষক নীতিন নবীন সহ বিজেপি শাসিত প্রায় ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতায় আসছেন। ফলে ব্রিগেডের এই মঞ্চ কেবল সরকার গঠন নয়, জাতীয় স্তরে গেরুয়া শিবিরের এক বিরাট শক্তিপ্রদর্শনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে চলেছে।
কে পাচ্ছেন কোন মন্ত্রক? সম্ভাব্য তালিকায় চমক
বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যের মতো বাংলাতেও কি ‘উপ-মুখ্যমন্ত্রী’ (Deputy CM) ফর্মুলা দেখা যাবে? সেই জল্পনা এখন তুঙ্গে। এরই মাঝে একটি সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকা সামনে এসেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে হইচই পড়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য দৌড়ে রয়েছেন—
পরিচিত মুখ: দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, স্বপন দাশগুপ্ত।
তরুণ ও সাংগঠনিক নেতৃত্ব: শঙ্কর ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, ইন্দ্রনীল খাঁ, সৌরভ শিকদার, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং দীপাঞ্জন চক্রবর্তী।
আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব: উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল— সব প্রান্তকে গুরুত্ব দিতে তালিকায় নাম রয়েছে জুয়েল মুর্মু, নমন রাই, দীপক বর্মন এবং বঙ্কিম ঘোষের।
অন্যান্য হেভিওয়েট: জল্পনায় রয়েছেন সজল ঘোষ, রুদ্রনীল ঘোষ, সুব্রত ঠাকুর, রথীন্দ্রনাথ বসু এবং জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
স্পিকার পদে বিশেষ নাম
মন্ত্রিসভার পাশাপাশি বিধানসভার পরবর্তী স্পিকার কে হবেন, তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ তাপস রায়-কে স্পিকারের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। যদিও সরকারিভাবে এখনও কোনো নাম সিলমোহর দেওয়া হয়নি।
নিরাপত্তার চাদরে তিলোত্তমা
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং এতজন ভিভিআইপি-র উপস্থিতিকে মাথায় রেখে ব্রিগেড চত্বরকে দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা প্রস্তুতির তদারকি করছেন। ২৫ বৈশাখের এই মেগা ইভেন্টের দিকে এখন নজর গোটা দেশের। বাংলার প্রশাসনিক ক্ষমতার এই পালাবদল কি নতুন কোনো দিশা দেখাবে? উত্তর মিলবে শনিবার সকালেই।