অবশেষে দীর্ঘ ১৮ মাসের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে আলোর মুখ দেখল কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইন বা লাইন ৬। চিংড়িঘাটায় বাইপাসের ওপর ৩১৭ থেকে ৩১৯ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী অংশে গার্ডার বসানোর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করলেন রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)-এর দক্ষ ইঞ্জিনিয়াররা। বাইপাসের ওপর এই গুরুত্বপূর্ণ ভায়াডাক্ট তৈরির কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিল, যার ফলে নিউ গড়িয়া থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছিল না।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দ্রুত পদক্ষেপ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই এই প্রকল্পটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পরপরই চিংড়িঘাটার ভায়াডাক্টের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন। রাজনৈতিক টালবাহানার কারণে যে কাজ বিগত সরকারের আমলে ১৮ মাস ধরে আটকে ছিল, তা সম্পন্ন হলো মাত্র ১২০ ঘণ্টার রেকর্ড সময়ে। সরকারের সদিচ্ছা এবং রেলের তৎপরতায় এই জটিল কাজ এখন সফলভাবে সম্পন্ন।
কীভাবে সম্পন্ন হলো এই মহাযজ্ঞ?
মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তিনটি পিলারের ওপর দুটি ভায়াডাক্ট তৈরির জন্য তাদের দুটি উইকএন্ডের প্রয়োজন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫ মে শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ১৮ মে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত যান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। দ্বিতীয় পর্বের কাজের জন্য ২২ মে শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ২৫ মে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময় ধার্য ছিল। তবে রেলের ইঞ্জিনিয়াররা নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করতে সক্ষম হন। ফলে আজ, সোমবার সকাল ৮টার আগেই বাইপাসের ওপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।
কেন আটকে ছিল কাজ?
চিংড়িঘাটার বাইপাসের ওপর এই ৩৬৬ মিটার অংশ জুড়ে মেট্রো লাইন তৈরির জন্য রাজ্য সরকার এবং কলকাতা পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন ছিল। প্রশাসনিক জটিলতা ও অসহযোগিতার কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস এই কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। যার প্রভাব পড়েছিল নিউ গড়িয়া থেকে সেক্টর ফাইভের মতো অত্যন্ত ব্যস্ত রুটের মেট্রো পরিষেবা চালুর ওপর। তবে এখন এই ৩৬৬ মিটারের বাধা দূর হওয়ায় পুরো প্রকল্পটির কাজের গতি বহুগুণ বেড়ে গেল।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মেট্রোর সিপিআরও সূত্রে খবর, চিংড়িঘাটার এই অংশ জুড়ে যাওয়ার ফলে এখন প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগোবে। সব কিছু ঠিক থাকলে এই বছরের শেষ দিক থেকেই নিউ গড়িয়া থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা জনসাধারণের জন্য চালু করে দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। চিংড়িঘাটার এই সাফল্যে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য প্রশাসন উভয়ই আশাবাদী যে, খুব শীঘ্রই দক্ষিণ কলকাতার সাথে তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রের যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। দীর্ঘদিনের এই জটিলতার সমাধানে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন কলকাতার নিত্যযাত্রীরা।





