ব্যাঙ্কিং লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বাক্ষর বা সিগনেচার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চেক থেকে টাকা তোলা হোক কিংবা অন্য কোনো জরুরি কাজ—ব্যাঙ্কের খাতায় থাকা নমুনার সঙ্গে বর্তমান স্বাক্ষরের মিল থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ডিজিটাল যুগে হাতে লেখার অভ্যাস কমে যাওয়ায় এবং সময়ের সঙ্গে হাতের লেখার পরিবর্তন হওয়ার কারণে অনেকেই পুরনো স্বাক্ষরের সঙ্গে বর্তমান স্বাক্ষরের সামঞ্জস্য রাখতে পারেন না। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, এই সামান্য অমিলের জন্য কি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি যতটা ভীতিকর মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়।
সই না মিললে কি অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়?
ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের মতে, কেবল স্বাক্ষর না মেলার জন্য কোনো ব্যাঙ্ক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয় না। সময়ের সঙ্গে হাতের লেখা পরিবর্তন হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে সই না মিললে চেক ক্লিয়ারেন্স বা ক্যাশ উইথড্রলের মতো লেনদেনে সমস্যা তৈরি হতে পারে। একটি সামান্য ডট বা রেখার অমিলও বড় ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে কী করবেন?
সই না মিললে আতঙ্কিত না হয়ে শান্তভাবে নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করুন:
১. ব্যাঙ্ক শাখায় যোগাযোগ: আপনার বাড়ির কাছের বা সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক শাখায় গিয়ে আধিকারিকদের বিষয়টি জানান।
২. পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন: ব্যাঙ্কে যাওয়ার সময় নিজের বৈধ পরিচয়পত্র যেমন—আধার কার্ড, প্যান কার্ড বা পাসবুক অবশ্যই সঙ্গে রাখুন। ব্যাঙ্ক আপনার পরিচয় নিশ্চিত করার পরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
৩. সিগনেচার আপডেট: ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ আপনাকে আপনার নতুন স্বাক্ষর আপডেট করার সুযোগ দেবে। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহককে ‘কেওয়াইসি’ (KYC) আপডেট করতে বলা হতে পারে।
৪. সতর্কতা: অনেক ব্যাঙ্ক পুরনো স্বাক্ষরের নমুনা দেখিয়ে গ্রাহককে একই ভঙ্গিতে স্বাক্ষর করার অনুরোধ করে। তবে মনে রাখবেন, ব্যাঙ্কে বসে সই অনুকরণ করার কোনো সুযোগ নেই, কারণ এতে আর্থিক প্রতারণার ঝুঁকি থাকে।
মনে রাখবেন, ব্যাঙ্কিং লেনদেন নিরাপদ রাখতে আপনার সিগনেচার রেকর্ড আপডেট রাখা একান্ত জরুরি। তাই যখনই বুঝবেন যে আপনার বর্তমান সই এবং ব্যাঙ্কের রেকর্ডের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে, তখনই সময় নিয়ে ব্যাঙ্কে গিয়ে নতুন সই আপডেট করিয়ে নিন। এতে ভবিষ্যতে যেকোনো বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।





