১৫ শতাংশ শুল্ক আর মোদীর ‘না’! সোনা কেনা কি এখন বিলাসিতা? পকেট বাঁচাতে এল নতুন মাস্টারপ্ল্যান

ভারতীয়দের কাছে সোনা কেবল একটি ধাতু নয়, এটি আভিজাত্য এবং বিপদের বন্ধু। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনা কেনা বা তাতে বিনিয়োগ করা সাধারণ মানুষের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার সোনার ওপর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে একলাফে ১৫ শতাংশ করেছে, অন্যদিকে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে আগামী এক বছরের জন্য নতুন সোনা কেনা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। এই জোড়া ধাক্কায় যখন মধ্যবিত্তের মাথায় হাত, ঠিক তখনই বিকল্প পথ হিসেবে উঠে আসছে ‘গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম’ (Gold Monetization Scheme)।

কী এই গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম?

সহজ কথায় বলতে গেলে, আপনার বাড়িতে বা ব্যাঙ্কের লকারে যে সোনা অলসভাবে পড়ে আছে, তাকে কাজে লাগিয়ে উপার্জনের সুযোগ দিচ্ছে এই প্রকল্প। যে কোনও ভারতীয় নাগরিক তাঁর কাছে থাকা সোনার গয়না, মুদ্রা বা সোনার বার একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যাঙ্কে জমা রাখতে পারেন। এর বিনিময়ে ব্যাঙ্ক গ্রাহককে ওই সোনার ওপর নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো মন্দির, ট্রাস্ট বা বাড়িতে পড়ে থাকা অব্যবহৃত সোনাকে দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত করা এবং বিদেশ থেকে সোনা আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো।

বিনিয়োগের আগে সতর্ক হোন:

এই প্রকল্পের মাধ্যমে আপনি যেমন সুদ পাবেন, তেমনই কিছু কঠোর শর্তও রয়েছে যা জেনে রাখা জরুরি। সবথেকে বড় বিষয়টি হলো, আপনি যদি সোনার গয়না জমা রাখেন, তবে মেয়াদ শেষে সেই গয়না ফেরত পাবেন না। ব্যাঙ্ক আপনার গয়না গলিয়ে সোনার বারে রূপান্তরিত করবে। তবে গয়নায় যদি দামী পাথর বা রত্ন থাকে, তবে জমা নেওয়ার আগেই সেগুলো খুলে গ্রাহককে ফেরত দেওয়া হয়। এছাড়া সোনা যদি ভেজালযুক্ত হয়, তবে পরীক্ষার পর তার পরিমাণ ও মূল্য কিছুটা কমে যেতে পারে।

আবেদন ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া:

১. প্রথমেই আপনাকে ব্যাঙ্কে একটি জিরো-ব্যালেন্স ‘গোল্ড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট’ খুলতে হবে।

২. কেওয়াইসি (KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর সোনা জমা দিতে হবে ব্যাঙ্কের তালিকাভুক্ত ‘কালেকশন অ্যান্ড পিউরিটি টেস্টিং সেন্টারে’ (CPTC)।

৩. সেখানে সোনার বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করে তার বর্তমান বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হবে।

৪. প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে সোনার মূল্য আপনার অ্যাকাউন্টে রিফ্লেক্ট করবে এবং ব্যাঙ্ক আপনাকে একটি ডিপোজিট সার্টিফিকেট প্রদান করবে।

মাথায় রাখুন কিছু জরুরি টিপস:

সোনা জমা দেওয়ার আগে ব্যাঙ্কের সুদের হার এবং তা প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে বিশদে জেনে নিন। কিছু ব্যাঙ্ক প্রতি বছর সুদ দেয়, আবার কিছু ব্যাঙ্ক মেয়াদ শেষে আসল ও সুদ একসাথে প্রদান করে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আপনি সেই অর্থ সোনা হিসেবে ফেরত নেবেন না কি নগদে, তা অ্যাকাউন্ট খোলার সময়ই পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে পকেটের টাকা খরচ না করে জমানো সোনা থেকেই উপার্জনের এটিই হতে পারে শ্রেষ্ঠ উপায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy