১৫০০ টাকায় ‘স্ত্রী’, ২০০০ টাকায় ‘স্বামী’! বিহারে মদ পাচারের এমন অদ্ভুত ফন্দি দেখে তাজ্জব পুলিশ!

মদ পাচারের নিত্যনতুন ও অদ্ভুত সব কৌশলের কথা প্রায়ই শোনা যায়, কিন্তু বিহারের মোতিহারিতে যা ধরা পড়ল, তা কল্পনাকেও হার মানাবে। উত্তর প্রদেশ থেকে মুজাফফরপুরে বিলাসবহুল গাড়িতে করে মদ পাচারের সময় আবগারি বিভাগের হাতে ধরা পড়ল এক অদ্ভূত ‘পরিবার’। ধরা পড়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে যা জানা গেল, তা শুনে চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের।

কীভাবে ফাঁস হলো পর্দা? মোতিহারির কোটওয়া থানা এলাকায় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আবগারি বিভাগ একটি বিলাসবহুল গাড়ি আটক করে। তল্লাশিতে বাধা দিয়ে গাড়িতে থাকা নারী যাত্রী কর্মকর্তাদের হেনস্তার অভিযোগ তুললেও, শেষরক্ষা হয়নি। গাড়ি পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি করতেই ধরা পড়ে আসল রহস্য। গাড়ির সিটের নিচে তৈরি করা হয়েছিল একটি গোপন প্রকোষ্ঠ। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদের বোতল।

মদ পাচারের ‘রেট কার্ড’ ও অদ্ভুত পরিকল্পনা: জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই নারী স্বীকার করেন, পুলিশের চোখে ধুলো দিতে এবং একটি ‘পারিবারিক পরিবেশ’ তৈরি করে নির্বিঘ্নে পাচার করতেই এই অভিনব ছক সাজানো হয়েছিল। এই কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘রেট কার্ড’ ছিল:

  • ভাড়াটে স্বামী: পাচারের পুরো সময় সঙ্গে থাকার জন্য যুবকটিকে দেওয়া হতো ২,০০০ টাকা।

  • স্ত্রী (ওই নারী): এই কাজের জন্য তিনি পেতেন ১,৫০০ টাকা।

  • সন্তান: সঙ্গে থাকা শিশুটির ভূমিকা ছিল পুলিশকে আরও বেশি বিভ্রান্ত করা, যার জন্য দেওয়া হতো ৫০০ টাকা।

তদন্তে প্রশাসন: ধৃত তিনজনকে নিয়ে বর্তমানে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। আবগারি কর্মকর্তাদের মতে, এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে। কোন এলাকা থেকে এই মদ আনা হচ্ছিল এবং মুজাফফরপুরের কোথায় এই চালান খালাস করার পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অবৈধ মদ পাচারকারীদের এই ‘ফ্যামিলি প্যাক’ কৌশল বর্তমানে এলাকায় হাসির খোরাক যোগালেও, এর পেছনে থাকা বড় কোনো আন্তর্জাতিক চক্রের হাত আছে কি না, তা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে আবগারি বিভাগ।