পুরোনো গাড়িই হবে ইলেকট্রিক! শীঘ্রই আসছে নতুন কিট, খরচ কমবে বিপুল

ভারতের অটোমোবাইল বাজারে এখন বৈদ্যুতিক যানের (EV) জোয়ার। কিন্তু নতুন ইভি কেনার খরচ অনেকের সাধ্যের বাইরে। সাধারণ মানুষের এই সমস্যার সমাধানে এবার বড় চমক নিয়ে আসছে ‘সুয়ো ম্যানুফ্যাকচারিং’। পুরোনো পেট্রোল ও ডিজেল চালিত তিন চাকার যান এবং জনপ্রিয় ‘টাটা এইস’-এর মতো বাণিজ্যিক গাড়িগুলোকে ইলেকট্রিক গাড়িতে রূপান্তরের জন্য তারা বিশেষ ‘ইভি রেট্রোফিট কিট’ বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কী এই রেট্রোফিট কিট? রেট্রোফিট কিট হলো এমন একটি আধুনিক প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে একটি প্রচলিত দহন ইঞ্জিনের (Internal Combustion Engine) গাড়িকে খুব সহজেই ইলেকট্রিক গাড়িতে রূপান্তরিত করা যায়। এই পদ্ধতিতে গাড়ির পুরোনো ইঞ্জিন সরিয়ে সেখানে শক্তিশালী ইলেকট্রিক মোটর, ব্যাটারি এবং আধুনিক কন্ট্রোল সিস্টেম বসানো হয়। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমে, তেমনি নতুন গাড়ি কেনার চেয়ে অনেক কম খরচে ইভি চালানোর সুবিধা পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞের অভিমত ও পরিকল্পনা: নতুন দিল্লির এক অনুষ্ঠানে সুয়ো ম্যানুফ্যাকচারিং-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিওও ললিত বাইদ জানান, আগামী দুই ত্রৈমাসিকের মধ্যেই তারা এই কিটগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদনের আশা করছেন। অনুমোদন পাওয়ার পরপরই বাণিজ্যিকভাবে তা বাজারে পাওয়া যাবে।
কোম্পানিটি কর্ণাটকে একটি অত্যাধুনিক উৎপাদন কেন্দ্রও স্থাপন করছে। ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে এই প্ল্যান্টটি চালু হবে। সেখানে শুধু কিট নয়, বরং ইলেকট্রিক মোটর, কন্ট্রোলার এবং ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (BMS) মতো যন্ত্রাংশগুলোও তৈরি করা হবে, যা ভারতের স্থানীয় ইভি বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
কেন এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ? ভারতের ক্রমবর্ধমান ইভি নীতি এবং চার্জিং পরিকাঠামোয় বড় বিনিয়োগের ফলে বৈদ্যুতিক যানের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। ললিত বাইদ বলেন, “সরকারি পলিসি এবং স্থানীয় পর্যায়ে যন্ত্রাংশ তৈরির সুবিধা ভারতকে ইভি হাব হিসেবে গড়ে তুলছে।” এই কিটগুলো বাজারে এলে পরিবহন খরচ কমানোর পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় আর্থিক সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আপনার পুরোনো গাড়িটি কি তাহলে আগামী দিনে ইলেকট্রিক গাড়িতে পরিণত হতে চলেছে? সেই অপেক্ষায় এখন তাকিয়ে আছে পুরো অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি।