‘১২৫ বনাম ১৩৫’! প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই শুরু নম্বরের লড়াই, কার দাবি মিলবে ৪ মে?

২০২৬-এর প্রথম দফার ১৫২টি আসনের ভোটগ্রহণ শেষ হতেই বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে এখন শুরু হয়েছে ‘নম্বর গেম’। কার পাল্লা ভারী? কার ঘরে কটা আসন? এই নিয়ে শাসক-বিরোধী শিবিরের দাবি এবং পাল্টা দাবিতে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বৃহস্পতিবার ভোটের মাঝপথেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বড় ঘোষণা করে বসেন। তাঁর দাবি, “১৫২টি আসনের মধ্যে ন্যূনতম ১২৫টি আসন পাবে বিজেপি।”
তৃণমূলের পাল্টা চ্যালেঞ্জ
শুভেন্দুর এই দাবির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা তোপ দাগেন তৃণমূলের কুণাল ঘোষ। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, “১৫২টির মধ্যে ১৩২ থেকে ১৩৫টি আসনেই জিতছে জোড়াফুল।” সংখ্যার এই লড়াই আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যান জেল থেকে ফেরা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর সাফ কথা, “বাংলায় ২৩০টি আসন পাবে তৃণমূল, বিজেপি ১০০-র গণ্ডিই পেরোবে না।”
মোদি বনাম মমতা: বাগযুদ্ধের মহোৎসব
এদিন বলাগড়ের সভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেন, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় পদ্ম শিবিরের সরকার গড়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। মথুরাপুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরও এক কদম এগিয়ে বলেন, “এবার অনেক জেলায় তৃণমূলের খাতা পর্যন্ত খুলবে না। ৪ মে শুধু ফলপ্রকাশ হবে না, বাংলায় বড় পরিবর্তন হবে।” নবীন ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “নির্ভয়ে ভোট দিন, ভয় হারছে আর ভরসার জয় হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রীর এই ‘পরিবর্তন’ বার্তার পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা উসকে দিয়ে তিনি বলেন, “তার মানে কি আপনি ইভিএম-এ আগে থেকেই সব ফিট করে রেখেছেন? ভোটের বাক্স খুললে দেখবেন বিজেপি রাগে জ্বলছে আর লুচির মতো ফুলছে!”
প্রথম দফার এই নজিরবিহীন ৯২ শতাংশ ভোটদান কার পক্ষে গেল? তৃণমূলের জয়জয়কার হবে নাকি মোদি-শাহের ‘আসল পরিবর্তন’ সফল হবে? সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।