‘বন্দে মাতরম’-এর জনক বঙ্কিমচন্দ্র, জানেন কি তাঁর জীবনের এই অজানা অধ্যায়গুলো?

আজ ২৬ জুন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন। ১৮৩৮ সালে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করা এই কালজয়ী লেখককে ‘ভারতের আলেক্সান্ডার ডুমা’ বলা হয়। বাংলা সাহিত্যকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনিই ছিলেন পথিকৃৎ।

মাত্র ১১ বছর বয়সে তাঁর প্রথম বিয়ে হয়, তবে স্ত্রীর অকালমৃত্যুর পর তিনি পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সাহিত্যিক জীবনের শুরুটা হয়েছিল ইংরেজি উপন্যাস ‘রাজমোহনস ওয়াইফ’ দিয়ে। পরবর্তীতে ১৮৬৫ সালে ‘দুর্গেশনন্দিনী’ প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ধারার সূচনা করেন। তাঁর বিখ্যাত রচনার তালিকায় রয়েছে ‘বিষবৃক্ষ’, ‘কপালকুণ্ডলা’, ‘দেবী চৌধুরাণী’-র মতো কালজয়ী সব উপন্যাস।

সরকারি চাকরিতে থাকায় সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নিতে না পারলেও, বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর লেখনীর মাধ্যমেই স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ বপন করেছিলেন। তাঁর অমর সৃষ্টি ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে রচিত ‘বন্দে মাতরম’ সংগীতটি আজও প্রতিটি ভারতবাসীর হৃদয়ে দেশপ্রেমের শিহরণ জাগায়। ১৮৮২ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ বিরোধী চেতনার মূলে আঘাত করেছিলেন। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই সংগীতের সুরারোপ করেছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্যকর্ম কেবল বাংলাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং তাঁর উপন্যাস নিয়ে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য চলচ্চিত্র। আজকের এই দিনে মহান এই সাহিত্যিকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।