১০ হাজার বেকারের কর্মসংস্থানের টার্গেট নিলেন প্রশান্ত কিশোর! জানুন কী পরিকল্পনা?

ভোটের বৈতরণী পার করতেই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির মেয়াদ ফুরোয়—এমন ধারণাই সাধারণ মানুষের মনে চিরকাল রয়েছে। কিন্তু সেই ধারা ভেঙে জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই কর্মসংস্থানের বড় মাস্টারস্ট্রোক দিলেন জন সুরাজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর (PK)। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে থাকা বিজেপির দুর্গ বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্র দখল করার পর এবার এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি দেওয়ার টার্গেট নিলেন তিনি। আগামী এক থেকে দু’বছরের মধ্যে বাঁকিপুরের অন্তত ১০ হাজার পরিবারের সন্তানকে কাজের সুযোগ করে দিতে চান পিকে।
বাঁকিপুরের বেকারদের কাছে CV চাইলেন প্রশান্ত
নির্বাচনে জয়ের পর মঙ্গলবার প্রথমবার বাঁকিপুরে গিয়ে ভোটারদের ধন্যবাদ জানান প্রশান্ত কিশোর। এলাকা ঘোরার সময়ই তিনি কর্মসংস্থান নিয়ে নিজের রূপরেখা স্পষ্ট করেন। শিক্ষিত অথচ কর্মহীন যুবক-যুবতীদের পরিবারকে তাদের ছেলেমেয়ের CV বা বায়োডেটা তৈরি করে তাঁর অফিসে জমা দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
তবে স্পষ্টতই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনো সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিষ্ঠিত শিল্পমহল ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে তাঁর যে ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে, তা ব্যবহার করেই বাঁকিপুরের যোগ্য ছেলেমেয়েদের বেসরকারি ক্ষেত্রে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
বাইরেও যেতে হতে পারে কাজের জন্য
প্রশান্ত কিশোর পরিষ্কার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে অনেক যুবক-যুবতীকে কাজের জন্য বিহারের বাইরেও যেতে হতে পারে। বর্তমান সময়ে দেশের অন্যান্য রাজ্যে যে সমস্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে, সেই দরজাগুলিই বাঁকিপুরের ছেলেমেয়েদের জন্য খুলে দিতে চান তিনি। আপাতত সরকারি চাকরির কোনো এক্তিয়ার তাঁর হাতে না থাকলেও বেসরকারি খাতেই বড় পরিবর্তনের আশা দেখাচ্ছেন তিনি।
বিজেপির দুর্গে ভাঙন ও পিকের বার্তা
গত ৩ অগাস্ট বাঁকিপুর বিধানসভার উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহাকে ১৯,৩২৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন প্রশান্ত কিশোর। তিনি পান ৬৪,১৫১ ভোট, যেখানে বিজেপি প্রার্থী পান ৪৪,৮২৭ ভোট। প্রায় ৩০ বছরের গেরুয়া আধিপত্য গুঁড়িয়ে এই জয় ছিনিয়ে আনেন তিনি।
নির্বাচনের পর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না বলে যে প্রশ্ন উঠেছিল, তার জবাবে পিকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— তিনি কোথাও যাচ্ছেন না, এলাকার মানুষের পাশেই আছেন। আগামী দু’তিন মাসের মধ্যেই এলাকার উন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। শিক্ষা, চাকরি, মাসে ১,১০০ টাকা পেনশন এবং রেশন—এই চারটি বিষয়কে পাখির চোখ করে বাঁকিপুরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন জন সুরাজ প্রধান।