ঘুমন্ত মুম্বইয়ে বড় বিপর্যয়! ভোরের আলো ফুটতেই ধস নামায় ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু ৫ জনের

মুম্বইয়ের বুক থেকে উঠে এল এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার খবর। বুধবার ভোরে ঘাটকোপার-কুর্লা রোডের অশোক নগর এলাকায় হঠাৎই নেমে আসে ভয়াবহ ধস। যখন গোটা শহর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই ঘটে এই বিপর্যয়। বুধবার ভোর ৩টে ৪৮ মিনিটের এই আকস্মিক ভূমিধসের জেরে ধ্বংসস্তূপের নীচে সম্পূর্ণ চাপা পড়ে যায় একাধিক বসতঘর। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। পাশাপাশি, ধসের জেরে ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও বেশ কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় মুম্বই পুলিশ, দমকল বাহিনী, বৃহন্মুম্বই পুরসভা (BMC) এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে চিরাগ নগরের গৌসিয়া চাওল এলাকায়, রাঠোর মেডিক্যাল সংলগ্ন অঞ্চলে। ঘটনার আকস্মিকতায় দিশেহারা হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ ও পুরসভার প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নীচে অন্তত চার থেকে আট জন আটকে থাকতে পারেন। উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যেই স্বস্তির খবর হিসেবে ধ্বংসস্তূপের গভীর থেকে দু’জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরের নাম ১৮ বছরের সোহেল আনসারি এবং ১৪ বছরের মহম্মদ আনসারি। তাদের পায়ে সামান্য আঘাত লেগেছে। নিরাপদে উদ্ধারের পর তারা ঘাতক ধসের মুহূর্ত এবং ঘরের ভিতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্ধারকারীদের বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে।

মুম্বই পুলিশের ডেপুটি কমিশনার গণেশ শিন্দের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, লাগাতার প্রবল বৃষ্টির ফলেই অশোক নগর এলাকার এই পাহাড়ি ঢালে ধস নেমেছে। প্রথমে ঘটনাস্থল থেকে দুটি মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানানো হলেও পরবর্তীতে তল্লাশি চালানোর পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচে দাঁড়ায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ।

অন্যদিকে, বৃহন্মুম্বই পুরসভার আধিকারিক গজানন জৈতাপকর দাবি করেছেন যে বর্ষার আগেই ওই বিপজ্জনক এলাকার একাধিক বাড়িকে সতর্ক করে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে খতিয়ে দেখে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এদিকে, প্রবল বর্ষণের জেরে মুম্বইয়ের বিভিন্ন প্রান্তে জলমগ্ন পরিস্থিতি এবং ভূমিধসের আশঙ্কার মধ্যেই এই মারাত্মক দুর্ঘটনা পাহাড়ি ঢাল ও ঝুঁকিপূর্ণ জনবসতিগুলির নিরাপত্তা নিয়ে ফের একশো শতাংশ বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল। আপাতত ধ্বংসস্তূপের নীচে আর কেউ জীবিত বা মৃত অবস্থায় আটকে রয়েছেন কি না, সেটাই খুঁজে বের করা প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।