১০ বছর আগে মারা গিয়েছেন স্বামী, গণধর্ষণের শিকার বিধবা! শিউরে ওঠা কাণ্ড মোদির রাজ্যে

মধ্যরাতে বাড়ি ফেরার পথে তিন পূর্ব পরিচিত যুবকের যৌন লালসার শিকার হলেন ৫০ বছর বয়সী এক বিধবা প্রৌঢ়া। গুজরাটের গির সোমনাথ জেলার উনা শহরে এই নৃশংস গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে। নির্যাতিতা অভিযোগ করেছেন, তাঁকে ২৪ ঘণ্টা ধরে লাগাতার গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে।

মঙ্গলবার অসহ্য পেটের যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। চিকিৎসকদের বিষয়টি জানানোর পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং বুধবার তিন অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করেছে।

কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা শ্রমিকের কাজ করে একাই সংসার চালান। ঘটনার দিন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে, তিনি মান্ডভি চেকপোস্ট থেকে গ্রামের দিকে ফিরছিলেন। রাতে কোনো যানবাহন না পেয়ে সমস্যায় পড়েন।

তখনই তিন অভিযুক্ত যুবক বাইকে করে তাঁর সামনে এসে পথ আটকায়। প্রৌঢ়ার পূর্ব পরিচিত হওয়ায় তাঁরা বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিলে প্রৌঢ়া তাতে রাজি হন।

গণধর্ষণ: বাইকে চড়ার পর খানিকটা যাওয়ার পরেই তিন যুবক প্রৌঢ়াকে নিয়ে একটি নির্জন জায়গায় চলে যায়। সেখানেই প্রথমে তাঁকে তিনজনে ধর্ষণ করে।

লাগাতার অত্যাচার: এরপর এক অভিযুক্তের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আবারও তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়।

পরের দিন অভিযুক্তরা প্রৌঢ়াকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার পর ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকে। বিষয়টি বাইরে ফাঁস করলেই আবারও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। পেটের যন্ত্রণায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

তিন অভিযুক্তই পেশায় মৎস্যজীবী। নববন্দর মেরিন থানায় এফআইআর দায়ের করার পর পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করেছে।

অন্য খবর: শ্বশুর-দেওরের বিরুদ্ধে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ, ব্ল্যাকমেল করতেন স্বামীও
ভদোদরা, গুজরাট: গুজরাটের ভদোদরায় আরও একটি চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের ঘটনা সামনে এসেছে। নভোপুরা থানায় এক তরুণী তাঁর শ্বশুর ও দেওরের বিরুদ্ধে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি স্বামীর বিরুদ্ধেও ব্ল্যাকমেল ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।

সন্তানধারণের চাপ ও নির্যাতনের শুরু
তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে অশান্তি শুরু হয়। তাঁর বয়স বেড়েছে বলে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাঁকে দ্রুত সন্তানধারণের জন্য চাপ দিতে থাকে। মেডিক্যাল টেস্টে জানা যায়, স্বামীর শুক্রাণুর সংখ্যা কম থাকায় সাধারণভাবে সন্তানধারণ সম্ভব নয়। তরুণী সন্তান দত্তক নিতে চাইলেও তাতে শ্বশুরবাড়ির আপত্তি ছিল।

তরুণীর অভিযোগ,

শ্বশুরের ধর্ষণ: ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তাঁর শ্বশুর ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে তাঁকে ধর্ষণ করেন। চিৎকার করেও কেউ তাঁকে রক্ষা করতে আসেনি। উল্টে চড়-থাপ্পড় খেতে হয় তাঁকে।

স্বামীর হুমকি: ঘটনাটি স্বামীকে জানালেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। বরং নগ্ন ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে স্ত্রীকে চুপ থাকতে বাধ্য করেন।

দেওরের যৌন নির্যাতন: গত বছরের ডিসেম্বর মাস নাগাদ শ্বশুরের মতোই বিবাহিত দেওরও তাঁকে চুপিসারে ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করেন। এরপর একাধিকবার দেওর তাঁকে যৌন নির্যাতন করেছেন।

চলতি বছরে জুন মাসে তরুণী গর্ভবতী হলেও আগস্ট মাসে তাঁর গর্ভপাত হয়, এরপর নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। গত জুলাই মাসেই তরুণী পুলিশকে পুরো বিষয়টি জানান। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ রবিবার শ্বশুর, দেওর ও স্বামীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।