হামাস-ইসরায়েল শান্তি চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের বড় ঘোষণা, মুক্তি পাচ্ছেন সব বন্দি, গাজায় সেনা সরাবে ইসরায়েল!

এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক সাফল্যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ইজরায়েল এবং প্যালেস্তিনীয়ান প্রতিরোধ সংগঠন হামাস তাঁর প্রস্তাবিত গাজা ‘শান্তি পরিকল্পনা’র প্রথম ধাপে সম্মতি দিয়েছে। ট্রাম্প বুধবার (স্থানীয় সময়) তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ Truth Social-এ এক পোস্টে এই ঐতিহাসিক খবরটি প্রকাশ করেন।

চুক্তির প্রথম ধাপে কী আছে?
ট্রাম্পের পোস্ট অনুযায়ী, এই চুক্তির প্রথম ধাপের মূল বিষয়গুলি হলো:

বন্দি মুক্তি: “খুব শিগগিরই সব বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে।”

সেনা প্রত্যাহার: “ইজরায়েল তাদের সেনা প্রত্যাহার করবে এক সম্মত রেখা পর্যন্ত।”

ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে “একটি শক্তিশালী, বুনিয়াদি ও চিরস্থায়ী শান্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এই ঘটনা সম্ভব করার জন্য কাতার, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চুক্তির প্রথম ধাপ আজই (বৃহস্পতিবার) মিশরের রাজধানী কায়রোতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে চলেছে।

গাজায় অবিশ্বাস ও আশার মিশ্র প্রতিক্রিয়া
গাজা জুড়ে খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই দেখা গেছে অবিশ্বাস ও সাবধানী উদযাপনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। দুই বছরব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের কাছে এটি এক বিশাল স্বস্তির বার্তা। গাজার বাসিন্দা সামের জুদেহ এএফপিকে বলেন, “সত্যি বলতে, খবরটা শোনার পর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। আনন্দের কান্না চলে আসে।”

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে ২০,১৭৯ শিশু নিহত হয়েছে, ১২ লক্ষাধিক মানুষ খাদ্যাভাবের শিকার, এবং ৫৮,৫৫৪ শিশু অনাথ হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, গাজার পরিকাঠামো প্রায় সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।

মোদি ও জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক্স (X)-এ এক পোস্টে তিনি লেখেন, “এটি শুধু শান্তির দিকেই নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রতিফলনও বটে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বন্দিদের মুক্তি ও মানবিক সহায়তা বাড়ানো দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই চুক্তিকে “অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এক কূটনৈতিক সাফল্য” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে চুক্তির শর্তাবলি সম্পূর্ণরূপে মানা, সব বন্দিকে মর্যাদাপূর্ণভাবে মুক্তি দেওয়া এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও যোগ করেন, জাতিসংঘ মানবিক ত্রাণ ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহযোগিতা করবে।

যদিও এই চুক্তির ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দেয়, তবুও বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে বাস্তব প্রয়োগই আসল চ্যালেঞ্জ। হামাস ও ইজরায়েলের মধ্যকার গভীর অবিশ্বাস, পশ্চিম তীরের জটিলতা এবং ইজরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে এই ‘শান্তি’ কতটা স্থায়ী হবে তা এখনও অনিশ্চিত। তবে আপাতত, গাজার জনগণের জন্য এই ঘোষণাই একটুকরো আশার আলো।