১০,০০০ কোটির মহাঘোটালা! নতুন সরকার আসতেই বীরভূমে পর্দাফাঁস মেগা দুর্নীতির

বীরভূমের পাথর শিল্পাঞ্চল থেকে বিগত সরকারের আমলে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব তছরুপ হয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন সিউড়ির বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি তহবিলে জমা না পড়ে সরাসরি অন্য কোথাও চলে গিয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জেলা প্রশাসনের সাথে বিজেপি বিধায়কদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে এখন থেকে কোনো বেসরকারি সংস্থা নয়, বীরভূমের ২৫০টি পাথর খাদান ও ৯টি টোল গেট থেকে ৪টি সরকারি দফতর যৌথভাবে সরাসরি রাজস্ব আদায় করবে।
এই নতুন ব্যবস্থা চালু হতেই বীরভূমের পাথর শিল্পে আয়ের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক রেকর্ড লক্ষ্য করা গেছে। এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় কিছু চমকে দেওয়ার মতো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বিগত সরকারের আমলে যেখানে দৈনিক গড় রাজস্ব আদায় হতো মাত্র ১৯ লক্ষ টাকা, সেখানে প্রশাসনিক কড়াকড়ির জেরে নভেম্বর ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে দৈনিক আদায় বেড়ে দাঁড়ায় ৭০ লক্ষ টাকা। এরপর, নতুন সরকার ও জেলা প্রশাসনের যৌথ তদারকিতে গত ১৭ মে আদায় হয় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ১৮ মে সেই রাজস্ব একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। বিধায়কের দাবি, সরকারি নজরদারি বজায় থাকলে দৈনিক আয় ৩ কোটি টাকা ছোঁয়া সম্ভব। এই বিপুল আয়ের খতিয়ান সামনে আসার পরই বিগত আমলের ১০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।